kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

দুই মাস ধরে ভাঙা ঘর

সিলেটে বন্যা

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই মাস ধরে ভাঙা ঘর

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের চাতলপার গ্রামে বন্যায় ভেঙে গেছে ঘর। মালপত্রও ভেসে গেছে বানের জলে। প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া শাফিয়া বেগম তবু ভাঙা ঘরে বসে থাকেন আনমনে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘরের চালের টিন পাল্টে ঠিকঠাক করিয়েছেন বছরও ঘোরেনি। এখন ঘরটাই নেই। বন্যায় ভেঙে গেছে। ফলে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাতলপার গ্রামের আব্দুর রব (১০৫) এবং শাফিয়া বেগম (৯০) দম্পতির অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

শাফিয়া বলেন, ‘আমার চারটা আমগাছ ছিল। শবরি আম। খুব মজা খাইতে। আমগুলো পেড়ে বিক্রি করে কয়েক বছরে ১০ হাজার টাকা জমিয়ে ঘরের টিন বদলে মেরামত করছিলাম। এক বছরও থাকতে পারলাম না। ঘর ভেঙে দিয়েছে বন্যায়। ’

শাফিয়া জানান, নিজেকে বয়ে চলাই কঠিন। এর ওপর স্বামী বয়সের ভারে কাবু। অসুখে জর্জরিত। তাঁকেও দেখভাল করতে হয়। চার ছেলে, দুই মেয়ে থেকেও যেন নেই। নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ততায় মা-বাবার খোঁজ নেওয়ার সময় তাদের নেই। যে সময়টায় বিশ্রামে থাকার কথা, সে সময়ে এই বৃদ্ধা টানছেন সংসারের ঘানি। এখন তাঁরা গৃহহীন।

স্থানীয়রা জানায়, এক পাশে কাটাখাল নদী, আরেক পাশে হাওর। মাঝখানে চাতলপার পূর্ব গ্রামে বসতঘর এই দম্পতির। বন্যা তাঁর ঘরকে তছনছ করে দিয়েছে। ঘরের চালা ছাড়া আর কিছু নেই। আসবাব, হাঁড়িপাতিল যা ছিল সব চলে গেছে বন্যার তোড়ে।

গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চাতলপার গ্রামে গিয়ে দেখা হয় শাফিয়া বেগমের সঙ্গে। পরিত্যক্ত ঘরের সামনে উদাস হয়ে বসা ছিলেন। বন্যা প্রসঙ্গ আসতেই বললেন, ‘(১৭ জুন) বিকেল বেলায় দেখলাম পানি দুয়ারের ধারে ছিল। সন্ধ্যা নামতে নামতে হঠাৎ বুকসমান পানি। অনেক স্রোত ছিল। কেমনে বের হই ভেবে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ’

অনেক কষ্টে ঢেউয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে কোনোমতে ঘর থেকে বের হন তিনি। এরপর তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশী সম্পর্কে দুই নাতি এসে স্বামীকে কোলে করে পাশের দালানে নিয়ে যায়। পরে নৌকা এলে তাঁদের কোম্পানীগঞ্জ বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্কে নিয়ে যান প্রতিবেশীরা।

এসব বর্ণনা দিয়ে শাফিয়া বলেন, ‘বন্যার পর ফিররা আইস্যা দেখি সব শেষ। ঘরের চালা ছাড়া কিচ্ছু নাই। একটা ভাত রান্নার ডেগ আটকে ছিল বাঁশের সঙ্গে ওটা শুধু পাইছি। ’

আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফেরার পর পাশের বাড়িতে আপাতত আশ্রয় মিলেছে এই বৃদ্ধ দম্পতির। স্বামী মানুষের সাহায্য ছাড়া নড়তে-চড়তে পারেন না। পাশের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, একটি কক্ষে অনেকটা অন্ধকারে শুয়ে আছেন রব। চারপাশে মাছি ভনভন করছে। শব্দ শুনে অন্যদের সহায়তায় উঠে বসলেন।

নানা কথার ফাঁকে শাফিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘কত মানুষের অবস্থা ভালা। কিন্তু তারা সরকারের দেওয়া ১০ হাজার টাকা পেয়েছে। আমরা দুইটা বৃদ্ধ মানুষ চলতে পারি না। ঘরবাড়িও নিয়ে গেছে বন্যা। কিন্তু আমরা সরকারের কাছ তাকি কিছু পাই না। ’

 



সাতদিনের সেরা