kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

মাদরাসার টয়লেটে ছাত্রের লাশ

শিক্ষক আটক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সকালে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল মাদরাসাছাত্র মোহাম্মদ আলী (৯)। কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরে মাদরাসার টয়লেটেই মিলল তার লাশ। শিশুটির মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, নির্যাতন করে মোহাম্মদ আলীকে মেরে ফেলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাউতলী বাসস্ট্যান্ডের পাশে ইব্রাহিমিয়া তাহফিজুল কুরআন মাদরাসায় এই ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা শিক্ষক হুসাইন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তিনি বেত্রাঘাতের কথা স্বীকার করলেও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

মৃত মোহাম্মদ আলী পৌর এলাকার কাউতলীয় কাউছার মিয়ার ছেলে। ময়নাতদন্তের জন্য মোহাম্মদ আলীর লাশ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে জব্দ করা হয়েছে মাদরাসার সিসিটিভি ক্যামেরা। বিকেলে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা করা হয়নি।

মোহাম্মদ আলীর লাশ উদ্ধারের পর অভিভাবকদের কাছে অন্য শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় অনেকেই মাদরাসায় নিয়মিত নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ আনেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীনসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মোহাম্মদ আলীর গলায় গামছা পেঁচানো ছিল।

ওই ছাত্রের ফুফু মমতাজ বেগম বলেন, ‘মাদরাসাটিতে প্রায়ই মারধরের খবর পাওয়া যায়। মোহাম্মদ আলীকেও নির্যাতন করে মারা হয়েছে। তা না হলে কেন আমাদের খবর দেওয়া হলো না। ’

মোহাম্মদ আলীর বাবা কাউছার মিয়া বলেন, ‘ছেলের জন্য খাবার নিয়ে আসার পর আমাকে প্রথমে মাদরাসায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অনেকক্ষণ পর ঢুকে গিয়ে দেখি টয়লেটে আমার ছেলের লাশ। গলায় গামছা পেঁচানো থাকলেও তার পা মাটিতে লাগানো ছিল। আমার ছেলেকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ’

শিক্ষক মো. হুসাইন আহমেদ বলেন, ‘পড়তে না পারায় সকালে মোহাম্মদ আলীসহ তিনজনকে বেত্রাঘাত করি। পরে বিষয়টি তাদের একাধিকবার বুঝিয়েও বলি। সকালে মোহাম্মদ আলীর বাবা এলে পড়া না পারার বিষয়টি তাঁকেও জানাই। দুপুরে বাথরুমে তার লাশ দেখতে পেয়ে আমরা হতভম্ব হয়ে যাই। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমরা কী করব বুঝতে পারিনি। ’

সদর থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে মাদরাসাছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সেটি নিশ্চিত করতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ’

 

 



সাতদিনের সেরা