kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

রোগীতে ঠাসা, চিকিৎসক দুর্লভ

বরগুনা প্রতিনিধি   

১১ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোগীতে ঠাসা, চিকিৎসক দুর্লভ

জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসা বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ড মিলিয়ে রোগীতে ঠাসা থাকে। অথচ নেই তেমন সুযোগ-সুবিধা। এর প্রধান কারণ হাসপাতালে ৪৩ চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত ১১ জন।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি থাকা গৃহবধূ রীমা বেগম সন্ধ্যার পর প্রসব বেদনায়  কাতরাচ্ছিলেন।

রাতে চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, গাইনি বিভাগে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দেওয়া হয় না। তাঁদের অন্য কোথাও চিকিৎসা নিতে হবে। শহরের বেসরকারি ক্লিনিক ঘুরে শেষ পর্যন্ত রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন ওই গৃহবধূ। এ ঘটনার পর এই জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত রবিবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পুরনো ভবনে বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। বরগুনা সদরের হাজারবিঘা এলাকার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বুকে ব্যথা হওয়ায় চিকিৎসার জন্য সকালে আইছি। এহন বাজে ১১টা। অনেক মানু আছে এখানে, ডাক্তারে দেখাইতে পামু না। ’

বুকে ব্যথা নিয়ে দুই দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সদরের মাইঠা গ্রামের আবদুল কাদের (৫০)।

তিনি বলেন, ‘এই দুই দিনে ডাক্তার ওয়ার্ডে আইছে একবার। হ্যারপর খবর নাই। ’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রধান এই হাসপাতালে চিকিৎসকের ৩২টি পদ শূন্য। এর মধ্যে ২১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদের ১৭টিই শূন্য। আর চিকিৎসা কর্মকর্তার ১৯টি পদের মধ্যে ১৪টি পদ শূন্য। জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ ২১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মধ্যে নাক কান গলা, শিশু, গাইনি, প্যাথলজিস্ট, মেডিসিন, চক্ষু, কার্ডিওলোজিস্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, অর্থোপেডিকস, রেডিওলজিস্ট এবং সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকের পদ শূন্য।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও শয্যা আর পথ্য ছাড়া কিছু বাড়েনি। জনবল কাঠামো, অবকাঠামো ৫০ শয্যারই রয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যেই ২০১০ সালে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ছয়তলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন ভবনটি উদ্বোধন করার পর সেখানে করোনা ইউনিট করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, এই হাসপাতালে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ রোগী ভর্তি থাকে। এ ছাড়া বহির্বিভাগে গড়ে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগীর চিকিৎসা দিতে হয়। এরপর প্রশাসনিক কাজ, ময়নাতদন্ত, ধর্ষণের পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কাজকর্ম এই ১১ জনকেই করতে হয়।

জুনিয়র সার্জারি বিশেষজ্ঞ মো. তারেক হাসান বলেন, ‘অপারেশন করার সময় সহযোগী দরকার, হাসপাতালে জনবল না থাকায় ওয়ার্ড বয় ও সিস্টারদের নিয়ে অপারেশন করাতে হয়। এ ছাড়া অপারেশনের পর সহকারী দরকার, যাতে তাঁরা রাউন্ড দিতে পারেন। চিকিৎসক সংকট থাকার কারণে ছুটি নিতে পারি না, তিন বছর ধরে বাড়িতে যেতে পারি না। ’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সোহারফ হোসেন বলেন, ‘এত অল্পসংখ্যক চিকিৎসকের পক্ষে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা, বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের সামাল দেওয়া খুবই দুরূহ। ’

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা আলোচনা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণলায় প্রতিবেদন পাঠাব। ’



সাতদিনের সেরা