kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাত স্টেশনের যন্ত্র চুরি, ট্রেন চালনায় বিঘ্ন

ভৈরব-নরসিংদী রেললাইন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাত স্টেশনের যন্ত্র চুরি, ট্রেন চালনায় বিঘ্ন

পড়ে আছে মোটরবাক্স; (ডানে) বাক্স খোলার পর ভেতরের যন্ত্রাংশ। নরসিংদী থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে নরসিংদী পর্যন্ত সাত স্টেশনে যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ায় আন্ত নগর ট্রেন চালনায় বিঘ্ন ঘটছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকা-কিশোরগঞ্জ পথের এগারসিন্ধুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি আন্ত নগর।

ঢাকা-আখাউড়া পথের তিতাস কমিউটার ট্রেনটি দ্বিতীয় শ্রেণির মেইল। রেলওয়ের নিয়ম অনুসারে কাছাকাছি থাকলে মেইল ট্রেনকে দাঁড় করিয়ে আন্ত নগর ট্রেনকে যেতে দিতে হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রায় এক মাস ধরে নরসিংদীর জিনারদী থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পর্যন্ত কোনো স্টেশনে এই কাজটি করা যাচ্ছে না।

কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকার সাতটি স্টেশন থেকে যন্ত্র চুরি হয়ে গেছে। ওই যন্ত্রের মাধ্যমে একটি লাইন থেকে আরেকটি লাইনে ট্রেন নিতে সুইচ মুভ করানো হয়। যেটি এক ধরনের মোটর। এক মাস ধরে মোটরগুলো চুরি হচ্ছে বলে লোপ লাইনে ট্রেন প্রবেশ করানো যাচ্ছে না। ফলে প্রতিটি ট্রেন মেইন লাইন দিয়ে চালাতে হচ্ছে। এতে বিঘ্ন ঘটছে ট্রেন পরিচালনায়। ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হচ্ছে বিধায় যাত্রীদেরও দুর্ভোগ বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে মোটরগুলো চুরি হচ্ছে। চোরেরা মোটর খুলে এতে থাকা বিশেষ তার নিয়ে যাচ্ছে। ভৈরব স্টেশনের পর থেকে এসব মোটর চুরি হচ্ছে। এরই মধ্যে আপ লাইনে (ঢাকামুখী) দৌলতকান্দি, শ্রীনিধি, মেথিকান্দা, হাঁটুভাঙা, খানাবাড়ী, আমীরগঞ্জ, জিনারদী স্টেশনে প্রবেশমুখের মোটর চুরি হয়। ডাউন লাইনে (চট্টগ্রাম ও সিলেট) অভিমুখী লাইনের খানাবাড়ী ও আমীরগঞ্জ স্টেশন এলাকার মোটর চুরি হয়ে যায়।

কথা হয় কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশনের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (সংকেত) মো. সোলেমান হোসেনের সঙ্গে। রবিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘ট্রেনকে এক লাইন থেকে আরেক লাইনে নেওয়ার জন্য সুইচ মুভ করাতে যে মোটরের প্রয়োজন হয় সেটি চুরি হয়ে যাচ্ছে। ভৈরব স্টেশনের পর থেকে জিনারদী পর্যন্ত আপ ও ডাউন লাইনের বেশ কয়েকটি মোটর চুরি হয়। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমান অবস্থায় লোপ লাইনে ট্রেন প্রবেশ করানো যাচ্ছে না। প্রায় এক মাস ধরে এসব চুরি হচ্ছে। জিনিসটা খুব বেশি দামি নয়; কিন্তু ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভৈরব থানায় একাধিক অভিযোগও করা হয়েছে। ’

ভৈরব রেলওয়ে জংশন থানার ওসি রকিবুল হোসেন বলেন, ‘দুই দিন আগে আমি যোগ দিয়েছি। এরই মধ্যে আমীরগঞ্জ এলাকা থেকে যন্ত্র চুরি হওয়ার ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়েছে। এর আগেরও মামলা আছে। আমরা চেষ্টা করছি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে। ’

দৌলতকান্দি রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. শামছুল হক বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে আমার এখানে একটি মোটর চুরি হয়। এরপর একেক করে বেশ কয়েকটি স্টেশন থেকে মোটর চুরি হয়ে যায়। এ কারণে আপ লাইনে ভৈরব থেকে নরসিংদী পর্যন্ত কোথাও লোপ লাইনে ট্রেন প্রবেশ করানো যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত মোটর লাগানো হয়নি। আরো চুরির শঙ্কায় অন্য মোটরগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা খুলে রেখেছেন। ’



সাতদিনের সেরা