kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

নেত্রকোনার মদন

প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ চেয়ারম্যানের

এর আগে শ্রমিকদের সিম কার্ড জিম্মি রাখার অভিযোগ ওঠে গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মামুনের বিরুদ্ধে

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ চেয়ারম্যানের

শ্রমিকদের মজুরির পর এবার ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রংকরণ প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুনের বিরুদ্ধে। কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা নিজের পকেটে নিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অদৃশ্য কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (টিআর) প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রংকরণের জন্য ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

কাগজে-কলমে কাজ বাস্তবায়ন দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করেন প্রকল্প কমিটির সভাপতি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য সাহিদা বেগম।

অভিযোগ উঠেছে, পরিষদ ভবন রং না করে বরাদ্দের পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মামুন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এসব অনিয়ম করছেন তিনি। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে রংকরণের কোনো কাজই করা হয়নি। এর আগে কর্মসৃজন কর্মসূচির শ্রমিকদের নামে অ্যাকাউন্ট করা সিম কার্ড নিজের কাছে জিম্মি রাখার অভিযোগ ওঠে ইউপি চেয়ারম্যান মামুনের বিরুদ্ধে। পরে জিম্মি রাখা সিম কার্ডে আসা মজুরির টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন তিনি। মজুরির টাকা ফেরত চাইলে উল্টো শ্রমিকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ওই ইউনিয়নের শ্রমিক সরদার শাজাহানসহ ভুক্তভোগী ২৩ জন শ্রমিক সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে গত শনিবার কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হয়। শ্রমিকদের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য গত রবিবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও।

পরিষদ ভবন রংকরণ প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প কমিটির সভাপতি নারী ইউপি সদস্য সাহিদা বেগম বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যানের কথায় আমি স্বাক্ষর দিয়ে টাকা উত্তোলন করেছি। বরাদ্দের টাকা চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়ার পর তিনি পরে কাজ করতে বলেন। টাকা নিজের পকেটে রেখে এখন বলছেন, বরাদ্দ ফেরত দিয়েছেন। ’

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুন বলেন, ‘বন্যার পানির জন্য সময়মতো পরিষদ ভবনের রংকরণ প্রকল্পের কাজ করা হয়নি। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। ’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল বলেন, ‘দ্রুত কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। নয়তো তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম লুত্ফর রহমান বলেন, ‘বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 



সাতদিনের সেরা