kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

২৫ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২৫ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে

রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমির যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৫ সালে; কিন্তু স্থায়ী কোনো অবকাঠামো ছিল না। তাই প্রকল্প হাতে নিয়ে শুরু হয় অবকাঠামো নির্মাণ। প্রকল্পের আওতায় কারা প্রশিক্ষণ একাডেমির জন্য কিছু ভবনও নির্মিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত রাজশাহীতে থাকেনি কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি।

বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে প্রকল্পের নাম সংশোধন করা হয়েছে। একাডেমি বাদ দিয়ে এই প্রকল্পের নাম হয়েছে ‘কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’।

এর আগে ২০১৫ সালের ৯ জুন ‘কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি, রাজশাহী নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। সাত বছর পর এই প্রকল্পের নাম বদলে হয়েছে ‘কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহী। ’ গত মঙ্গলবার একনেকে এই নামেই প্রথম সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রথম সংশোধিত প্রকল্পে এর বাস্তবায়নে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

নাম বদলে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্পের পরিচালক সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তী বলেন, শুরুতে এটি কারা প্রশিক্ষণ একাডেমিই ছিল; কিন্তু প্রকল্প এলাকায় জায়গা কম। তাই সুরক্ষা সেবা বিভাগ মনে করেছে ওখানে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি হবে না। পরে আবার নির্মাণও শুরু হয়। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেন যে রাজশাহীতে যেটা নির্মাণ চলছে, সেটি কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হোক। পরে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নামেই একনেকে সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে বলে জানা গেছে।

কারারক্ষীদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ১৯৯৫ সালে রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমির কার্যক্রম শুরু হয়। নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় তখন থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে একতলা একটি ভবনে কার্যক্রম চলছে। শুরু থেকেই এই একাডেমিতে জেল সুপার, ডেপুটি জেলার এবং কারারক্ষীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ চলে আসছে। এই একাডেমিকে স্থায়ী রূপ দিতে ২০১৫ সালে ৭৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প অনুমোদন হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩৭ একর জমি বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে চার একর জমি ছিল পদ্মা নদীর চর। এই চার একর চর ছাড়াও নদীর ভেতর থেকে একাডেমির জন্য আরো ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে চেয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এ জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করা হয়। পাশাপাশি পদ্মা নদীর কিছু অংশে লাল নিশান টানিয়ে দেওয়া হয়। ‘কারা প্রশিক্ষণ একাডেমির জন্য নির্ধারিত জমি’ বলে সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় কারাগারের পেছনে কিছু গাছও কাটা হয়। আর তখনই ‘পরিবেশ রক্ষায়’ আন্দোলন শুরু করে কয়েকটি সংগঠন। তারা গাছ কাটার প্রতিবাদ জানায়। পাশাপাশি নদীর ভেতরে একাডেমি নির্মাণ না করারও দাবি জানায়। শেষ পর্যন্ত নদী দখল ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পর থেকেই একাডেমি বাস্তবায়নে দেখা দেয় ধীরগতি। রাজশাহীতে একাডেমি থাকছে না, এমন আলোচনাও চলছিল দীর্ঘদিন। শেষ পর্যন্ত রাজশাহীতে একাডেমি হলোই না। এখন সেটি হচ্ছে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

প্রকল্প অনুমোদনের সময় বলা হয়েছিল, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এর বাস্তবায়ন হবে; কিন্তু ২০১৮ সালেও কাজ ঠিকমতো শুরু হয়নি। এ পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে চারবার। সবশেষ বর্ধিত মেয়াদও শেষ হয়েছে গত জুন মাসে। এর আগেই গত বছর প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি করে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠান প্রকল্প পরিচালক। তিন দিন আগে সেটি একনেকে অনুমোদনের পর দেখা যাচ্ছে প্রকল্পের নামও বদলে গেছে।

কারা অধিদপ্তরের এই প্রকল্পের পরিচালক সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৭৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সাত বছর পর প্রথম সংশোধনের সময় এর ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। সংশোধিত প্রকল্পে আগামী বছরের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়েই এবার কাজ শেষ হবে। ’

প্রকল্পের নাম বদলে যাওয়ায় রাজশাহীতে চলমান কারা প্রশিক্ষণ একাডেমির কার্যক্রম কী হবে, তা জানতে চাইলে কারা অধিদপ্তরের কারা উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুরাইয়া আক্তার বলেন, ‘রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি আর থাকছে না। যেভাবে সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, সে আলোকেই একটি কেন্দ্র হিসেবে রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে। অন্যদিকে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি হতে পারে ঢাকায়। ’



সাতদিনের সেরা