kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

কালকিনিতে নিলামে যোগসাজশ

১১৭ মেহগনিগাছ কম দামে বিক্রি

গাছগুলোর একেকটির দাম ৩০-৫০ হাজার টাকা। কয়েকটি গাছের দাম এক লাখ টাকাও হওয়ার কথা, হেমায়েত শিকদার, শিক্ষক, চরফতে বাহাদুর উচ্চ বিদ্যালয়

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১১৭ মেহগনিগাছ কম দামে বিক্রি

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার চরদৌলত খান এলাকায় সড়কের পাশে কেটে রাখা হয়েছে মেহগনিগাছ। ছবি : কালের কণ্ঠ

মাদারীপুরের কালকিনিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) একটি সড়কের ১১৭টি মেহগনিগাছ আড়াই লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী এসব গাছের এত কম দামে বিক্রি নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চলছে তীব্র ক্ষোভ। তবে গাছের দাম নির্ধারণে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন নিলাম কমিটির সভাপতি ও কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

গাছ নিলাম কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি, সহকারী ভূমি কমিশনার সদস্যসচিব এবং উপজেলা বন কর্মকর্তা ও উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন গাছ বিক্রিতে অনিয়ম তদন্ত সাপেক্ষে সড়কের গাছের প্রকৃত দাম নির্ধারণ করে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর দাবি করেন।

কালকিনি উপজেলা মালামাল/গাছ নিলাম কমিটি সূত্রে জানা গেছে, চরদৌলত খান ইউনিয়নের শিকদারের মার্কেট থেকে চরফতে বাহাদুর উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা পর্যন্ত এলজিইডির সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনে গাছ বিক্রয়ের নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। গত ১৩ জুলাই কালকিনি উপজেলা ভূমি অফিস থেকে উপজেলা মালামাল/গাছ নিলাম কমিটি এটি করে। চরদৌলত খান ইউনিয়নের এই সড়কটিতে নিলাম বিজ্ঞপ্তির আগে উপজেলা বন কর্মকর্তা ও এলজিইডির প্রকৌশলী ১১৭টি গাছের দাম গড়ে দুই হাজার ২১৩ টাকা করে দুই লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করেন। পরে গত ২৪ জুলাই নিলাম কমিটি গাছ নিলামে তুললে মাতুল মাতবর নামের এক ঠিকাদার ওই টাকার বিপরীতে গাছ অপসারণের দায়িত্ব পান। কিন্তু সড়কের বেশির ভাগ মেহগনিগাছের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মতো হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ওই গাছের দাম নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ গুণ বেশি দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করে।

বিক্রির পর ট্রাকে করে নেওয়া হচ্ছে গাছ।            ছবি : কালের কণ্ঠ

স্থানীয় বাসিন্দা চরফতে বাহাদুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হেমায়েত শিকদার বলেন, ‘আমাদের এলাকার সড়কটি থেকে যেসব মেহগনিগাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আমরা জেনেছি এই গাছগুলো দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই গাছগুলোর বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছর। এ গাছগুলোর একেকটির দাম ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। কোনো কোনো গাছের দাম এক লাখ টাকাও হবে। এই গাছগুলো বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে কম দেখিয়ে নিজেরা

লাভবান হচ্ছে। ’

এলাকার আরেক বাসিন্দা আব্বাস শিকদার বলেন, ‘এই সড়কে সরকারিভাবে ১১৭টি গাছের দরপত্র হলেও কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০-র বেশি গাছ বিক্রির জন্য নম্বর লিখে দিয়ে গেছে। সেখানে আমাদের ব্যক্তিগতভাবে লাগানো গাছও রয়েছে। আমাদের লাগানো তাল, জারুলগাছও কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ’

তবে ঠিকাদার মাতুল মাতবর বলেন, ‘আমরা সরকারের কাগজ অনুযায়ী গাছ কেটে নিচ্ছি। আপনারা ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখেন কাগজের বাইরে আমরা কোনো গাছ কেটে নিচ্ছি না। ’

সড়কের পুরনো গাছ কম দামে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মালামাল/গাছ নিলাম কমিটির সভাপতি পিংকী সাহা বলেন, ‘সঠিক প্রক্রিয়ায় সড়কটির গাছ নিলামে দিয়েছি।

এখানে কোনো অভিযোগের প্রশ্নই ওঠে না। ’



সাতদিনের সেরা