kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

৮০০ টাকার সার বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়

জয়পুরহাট ও শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৮০০ টাকার সার বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়

বগুড়ার শেরপুরে সার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন কৃষক। গত বুধবার জামুন্না বাজার থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার শেরপুরে আমন মৌসুমের শুরুতেই সার নিয়ে কারসাজি চলছে। স্থানীয় ডিলার-ব্যবসায়ীরা সারের কৃত্রিম সংকট ও দাম বাড়ানোর অজুহাত দেখিয়ে আগে বরাদ্দ পাওয়া ৮০০ টাকার ইউরিয়া সার এখন এক হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন। ফলে প্রতি বস্তায় ৩০০ টাকা বেশি দিয়েই সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। তবে এই বাড়তি দাম দিয়ে সার কিনে আমন চাষ করে লাভবান হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

অথচ বাড়তি দামের দিকে নজর নেই স্থানীয় কৃষি বিভাগের। এমনকি তাঁদের তদারকি না থাকায় ডিলারদের নামে বরাদ্দের সার উত্তোলন করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। এমনকি তাঁদের কাছে কমিশনের ভিত্তিতে লাইসেন্সও ভাড়া দিয়েছেন কোনো কোনো ডিলার। ফলে ডিলার-ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আর এই সিন্ডিকেটই কৃষকদের পকেট কেটে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া আমন চাষে ইউরিয়া সারের চাহিদা ও বরাদ্দ নিয়ে কৃষি বিভাগের হিসেবে গরমিল দেখা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস জানায়, কৃষিনির্ভর এই উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ২১ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা লাগানো হয়েছে। শেরপুর উপজেলায় মোট এক হাজার টন সারের প্রয়োজন হয়। সে অনুযায়ী জমিতে সার প্রয়োগও করেছেন কৃষকরা; কিন্তু কৃষি অফিসের খাতায় দেখা গেছে উল্টো চিত্র। আগস্টের প্রথম দিন পর্যন্ত এই উপজেলায় সার বরাদ্দ ও উত্তোলন হয়েছে মাত্র ৪৫৮ টন ইউরিয়া। তাহলে চাহিদার বাকি সার কৃষক কিভাবে সংগ্রহ করবেন—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহজাহান আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়; কিন্তু মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে সাবডিলার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মোতালেব হোসেন বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছি। ’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘কোনো ডিলার-ব্যবসায়ী এ ধরনের কাজ করলে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

এদিকে কেজিতে ছয় টাকা ইউরিয়া সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জয়পুরহাটের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন, এমনিতেই প্রতি বস্তা এমওপি ও টিএসপি সার সরকার নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে ইউরিয়া সারের দামও বেশি হওয়ায় এবার ধানের উৎপাদন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 



সাতদিনের সেরা