kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৯ সফর ১৪৪৪

কবিরাজের অপচিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যু

সখীপুর (টাঙ্গাইল) ও বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কবিরাজের অপচিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কবিরাজের ভুল চিকিৎসায় তাসলিমা আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার যাদবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তাসলিমা ওই গ্রামের মোতালেব হোসেনের মেয়ে।

এ ঘটনায় পাশের বেড়বাড়ী গ্রামের তাহের কবিরাজের ছেলে আসমান আলী কবিরাজের বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ ওই দিনই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য তা টাঙ্গাইলে হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

বিজ্ঞাপন

পরিবারের অভিযোগ, মানসিক রোগী তাসলিমা আক্তারের চিকিৎসা করছিলেন কবিরাজ আসমান আলী। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁকে ঝাড়ফুঁক দেওয়া হচ্ছিল। গত সোমবার ওই কবিরাজ ভূত তাড়াতে পেঁয়াজের রস, চুনসহ বিভিন্ন গাছের রস নাক দিয়ে ঢাললে অচেতন হয়ে পড়েন তাসলিমা আক্তার। পরদিন মঙ্গলবার মারা যান তিনি।

তাসলিমার স্বামী রাসেল আহমেদ বলেন, ‘কবিরাজ ভূত তাড়াতে আমার স্ত্রীর নাক দিয়ে পেঁয়াজের রস, চুনসহ বিভিন্ন গাছের রস ঢাললে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরদিন সে মারা যায়। ’

সখীপুর থানার এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, অভিযোগ পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য তা টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে তাঁর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

এদিকে নাটোরের বড়াইগ্রামে চিকিৎসকের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার রাতে উপজেলার জোনাইল বাজারে ওআর খান মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা তদন্তে গতকাল বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মেহতাজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

পরিবার সূত্র জানায়, পেটে ব্যথা অনুভব করলে গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের প্রতাবপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা আছিয়া বেগমকে (৩৫) স্থানীয় জোনাইল বাজারের ওআর খান মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরপরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ডলি রানী তাঁর অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের আগে কোনো রুটিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেননি। শুধু আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে সাদা কাগজের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেন। এর কয়েক মিনিট পরই তাঁরা একটি মৃত বাচ্চা নিয়ে এসে বলেন, বাচ্চাটি পেটের ভেতর দুই দিন আগেই মারা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খুরশীদ আলম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। প্রতিবেদন দাখিল করলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 

 



সাতদিনের সেরা