kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

সাগরে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নদীতে ইলিশ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল   

৩ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাগরে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নদীতে ইলিশ নেই

মৎস্য অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী গত ১ জুলাই থেকে নদীতে ইলিশ ধরতে শুরু করেছেন জেলেরা। তবে সাগরে ইলিশ ধরার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা এখনো চলছে, যা শেষ হবে আগামী ২৩ জুলাই।

অনুকূল পরিবেশ ও নদীর পানি বাড়লেও আষাঢ়ের শুরুতে জালে উঠছে না ইলিশ। মৎস্যজীবীদের দাবি, কালেভদ্রে দু-একটা ইলিশ মিলছে নদীর মোহনা থেকে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু অন্য বছর এই সময়ে বেশ ভালো ইলিশ উঠতে শুরু করে।

জেলেরা বলছেন, বর্ষার বৃষ্টি আর সিলেটের বন্যার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে ইলিশের বিচরণ বাড়ার কথা। বরিশালসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে এখন বৃষ্টি। এই ‘ইলশেগুঁড়ি’ বৃষ্টিতেও ইলিশ নেই নদীতে।

স্থানীয় মৎস্যজীবীদের রুটিরুজির ঠিকানা বলতে মেঘনাসহ আশপাশের নদী। সারা বছরই কিছু মাছ মেলে এই নদী থেকে। ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলে জেলেরা থাকেন সংকটে। সে সময় সরকারি সহায়তা থাকলেও তা অপ্রতুল। কিন্তু বর্ষাকালে ইলিশের দৌলতেই তাঁদের সারা বছরের পুঁজির জোগানটা হয়।

মেঘনা পারের পাতারহাতের বাসিন্দা মৎস্যজীবী আলী আহমেদ বলেছেন, ‘বছরের অন্য সময় মাছ ধরে কোনোক্রমে পেটের ভাতটা হয়ে যায় আমাদের। আর ইলিশের মৌসুমে ইলিশ ধরে মহাজনের ঋণ শো?ধের পরও পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি। এ বছর সেখানেই ঘাটতি পড়েছে। ’

কিন্তু অনুকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও ইলিশের দেখা নেই কেন মেঘনা পারের আরেক মৎস্যজীবী হোসেন আলীর কথায়, ‘সত্যিই আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। কেউ বলছেন, জাটকা (১০ ইঞ্চির কম সাইজের ইলিশ) ধরার বিধি-নিষেধ না মানার ফলেই ভুগতে হচ্ছে। ’

মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে প্রতিবছর আশ্বিনের পূর্ণিমার আগে ও পরে মোট ২২ দিন (সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ) ইলিশ ধরা পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা ধরা নিষেধ। একই সময়ে ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রমের মধ্যে একটিতে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এবং অন্য পাঁচটিতে মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক আনিচুর রহমান তালুকদার জানান, ১ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে ইলিশ ধরায় কোনো বিধি-নিষেধ থাকে না। বর্ষা মৌসুমের এ সময়েই নদ-নদীতে সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে।

তিনি আরো বলেন, উপকূলের জেলেপাড়া ও ইলিশ মোকামগুলো এ সময়ে থাকে মুখর। মাছ ধরার জন্য জুনের মধ্যভাগ থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন জেলেরা। তবে সাগরে ইলিশ ধরার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামী ২৩ জুলাই। তখন সাগর-নদী উভয় স্থানেই ইলিশ ধরা যাবে।

বরিশালের মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, সাগরে বেশির ভাগ ইলিশের পেটে এখন ডিম। আগামী মাস থেকে ডিম ত্যাগ করতে নোনাপানি ছেড়ে ইলিশ মিঠাপানি, অর্থাৎ নদীর দিকে ছুটবে। তখনই নদ-নদীতে বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে।

 

 



সাতদিনের সেরা