kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

লোভ দেখিয়ে ৪০ লাখ টাকা সংগ্রহ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

২৮ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লোভ দেখিয়ে ৪০ লাখ টাকা সংগ্রহ

বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার আমানত সংগ্রহের পর তা ফেরত না দেওয়ায় গতকাল জয়পুরহাট-বগুড়া সড়কের সুরাইলে আমানতকারীরা মানববন্ধন করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার আমানত সংগ্রহের পর তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সবুজ বাংলা উন্নয়ন কর্মসংস্থা নামের স্থানীয় একটি সমিতির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ওই সমিতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে শতাধিক আমানতকারী। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় জয়পুরহাট-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কালাই উপজেলার সুরাইল এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধন চলাকালে আমানতকারীরা জানান, সুরাইল গ্রামের আব্দুল কাদের, জোবায়ের ও গোলাম রব্বানী নামের তিন ব্যক্তি ২০১৯ সাল থেকে ‘সবুজ বাংলা উন্নয়ন কর্মসংস্থা’ নামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে উপজেলা সদরে একটি সমিতি চালু করেন।

বিজ্ঞাপন

সমিতিতে তাঁরা এক লাখ টাকা আমানতের বিপরীতে এক বিঘা জমি বন্ধকের কাগজপত্র এবং মাসে তিন হাজার টাকা মুনাফা দেওয়ার ঘোষণা দিলে হুমড়ি খেয়ে পড়েন গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষ। এরপর ওই সমিতিতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার আমানত রাখেন গ্রাহকরা। কিন্তু আমানতের বিপরীতে দেওয়া জমির বন্ধকি কাগজপত্র ছিল ভুয়া। আর প্রতি লাখ আমানতের বিপরীতে দেওয়া হয়নি তিন হাজার টাকা মাসিক মুনাফাও। এ অবস্থায় তাঁরা লাভ নয়, আমানতের আসল টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সমিতি কর্তৃপক্ষকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বরং উল্টো তাঁদের ভুয়া সাংবাদিক লেলিয়ে দিয়ে নানাভাবে মামলা ও হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে।

মানববন্ধনে আসা সুরাইল গ্রামের গৃহবধূ রেবেকা বেগম অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে ওই সমিতিতে তিনি তিন লাখ টাকা আমানত রাখেন। এর বিপরীতে তাঁকে তিন বিঘা জমি বন্ধক রাখার জন্য কাগজপত্র দেওয়ার কথা ছিল। এতে বছরে তাঁর ৬০ হাজার টাকা আয় হবে বলে প্রলোভন দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা দেওয়ার পর থেকে কোনো জমির কাগজপত্র তাঁকে দেওয়া হয়নি। এখন লাভ তো দূরের কথা, আসল টাকার জন্য ধরনা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না।

ওই গ্রামের হিমাগার শ্রমিক আবুল কাশেমের স্ত্রী সাকিমা বেগম বলেন, অন্যদের দেখে লাভের আশায় তাঁর স্বামীও ওই সমিতিতে এক লাখ ২০ হাজার টাকা আমানত রাখেন। কিন্তু চার বছর হয়ে গেলেও একটি টাকাও তাঁদের দেওয়া হয়নি। সমিতির নামে টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন সমিতির মালিক আব্দুল কাদের, জোবায়ের ও গোলাম রব্বানী। শুধু আমানত সংগ্রহ নয়, স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক নিয়ে সমিতির নামে চড়া সুদে টাকাও দেন সমিতির মালিক আব্দুল কাদের। এ জন্য এলাকায় তিনি দাদন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা গ্রামের মুরগি ব্যবসায়ী রুহেল হোসেন জানান, ব্যবসার জন্য স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক দিয়ে তিনি ওই সমিতি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পাঁচ মাসে সাত হাজার টাকা সুদসহ পরিশোধও করেন। এ অবস্থায় ২০২০ সালে দুই লাখ টাকার চেক প্রত্যাখ্যানের মামলা করেন সমিতির মালিক আব্দুল কাদের। একইভাবে উপজেলার কাথাইল-গোপিনাথপুর গ্রামের দরিদ্র অটোচালক মাসুদ রানাও স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক জমা দিয়ে ওই সমিতি থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নেন ২০২০ সালে। নিয়মিত সুদ দিতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে সাড়ে তিন লাখ টাকার চেক প্রত্যাখ্যানের মামলা করা হয়েছে। মানববন্ধন থেকে সমিতির নামে টাকা নিয়ে প্রতারণাকারী ওই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সবুজ বাংলা উন্নয়ন কর্মসংস্থার কোষাধ্যক্ষ আব্দুল কাদের বলেন, ‘শর্ত সাপেক্ষে সুরাইল গ্রামের চারজন ব্যক্তির কাছ থেকে ছয় লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে তাঁদের সময়মতো মুনাফা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর বেশি কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। তাঁরা যদি আমানতের টাকা ফেরত নিতে চান, তাহলে চার মাস আগে আবেদন করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ আবেদন করেননি। আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে—তা সত্য নয়। স্থানীয় একটি মহল সমিতির সুনাম ক্ষুণ্ন্ন করার জন্য অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ’



সাতদিনের সেরা