kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

আবাসিক ভবনের বাণিজ্যিক ব্যবহার

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২৮ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবাসিক ভবনের বাণিজ্যিক ব্যবহার

রাজশাহী নগরীর দুটি আবাসিক এলাকা ক্রমে বাণিজ্যিক রূপ নিচ্ছে। উপশহরে ৪৫০ ভবনের মধ্যে অন্তত ১২০টি এবং পদ্মা আবাসিক এলাকায় ২৫০ ভবনের মধ্যে অন্তত ৪০টি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ভবনে সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হোটেল তৈরি করা হয়েছে। ফলে আবাসিক এলাকার শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছিলেন আবাসিক এলাকার মধ্যে বাণিজ্যিক ভবন গড়ে তোলা যাবে না। এই নির্দেশনা পাওয়ার পর রাজশাহী গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী উন্নয়ন সংস্থা (আরডিএ) পৃথকভাবে তদন্ত করে। তারা তখন দেখতে পায়, বাণিজ্যিক ব্যবহার করতে গিয়ে মালিকরা ভবনের নকশা পাল্টে ফেলেছেন।

উপশহর

সম্প্রতি উপশহর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ১, ২ ও ৩ নম্বর সেক্টরে গড়ে উঠেছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, সরকারি-বেসরকারি নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে নিউ মার্কেট থেকে একটু পশ্চিম দিকে গেলে দেখা মিলবে ২ নম্বর সেক্টরে সাততলা একটি ভবনে গড়ে উঠেছে মিলেনিয়াম স্কুল। তার সামনের বাড়িতে গড়ে উঠেছে ওয়াসা ভবন। ওয়াসা ভবন থেকে সামনে পশ্চিম দিকের ভবনটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর পেছনে চারটি ভবন পার হলে চোখে পড়বে রাজশাহী বিভাগীয় কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট এক্সাইজের অফিস। এর পেছনের ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের একটি কার্যালয়। এ ছাড়া আরেকটি ভবনে রয়েছে কৃষি অধিদপ্তরের রাজশাহীর উপপরিচালকের কার্যালয়, রাজশাহী সমাজসেবা কার্যালয়। এ ছাড়া রয়েছে আরো বিভিন্ন ধরনের অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠান। ৩ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়িতে রয়েছে সরকারি শেখ রাসেল শিশু বিকাশ কেন্দ্র, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি আরো অন্তত ২০-২৫টি কার্যালয়। ১ নম্বর সেক্টরে তিনতলার নবনির্মিত একটি বাড়িতে গড়ে তোলা হয়েছে একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্ট, তার পাশের আরেকটি বাড়িতে গড়ে উঠেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেরাম। এর বাইরে অন্তত ২৫টি ভবনে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

উপশহরের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা বাড়ি থেকে বের হয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে না। ’

আরেক বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, ‘বসবাস উপযোগী উপশহরকে এখন বাজারে পরিণত করা হয়েছে। ’

রাজশাহী গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিমল কুমার কুরি বলেন, ‘এই ভবন মালিকদের কয়েকজনকে আমরা সতর্কীকরণ নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু তার পরও থেমে নেই এই কাজ। সমানে আবাসিক ভবনে গড়ে তোলা হচ্ছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ’

পদ্মা আবাসিক এলাকা

পদ্মায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। এখানকার একটি ভবনে চেজ রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি আবাসিক হোটেল গড়ে তুলেছেন। একটি ভবনে রয়েছে মাদরাসা, তিনটি ভবনে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দুটি ভবনে রয়েছে এনজিও কার্যালয়। এ ছাড়া আরো অন্তত ১৫টি ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী জুয়েল রানা বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কারণে আবাসিক এলাকা যেন বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। এগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ’

জানতে চাইলে রাজশাহী নগর উন্নয়ন সংস্থার অথোরাইজড কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এদের আমরা চিঠি দিয়ে সতর্ক করেও কোনো লাভ হয়নি। এখনো অনেকে সেই কাজই করে যাচ্ছেন। তবে এগুলোর বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেব আমরা। ’



সাতদিনের সেরা