kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

সুন্দরবনে প্রাণী হত্যা কমেছে

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৬ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এমনও একদিন ছিল যে, সুন্দরবন থেকে কোনো বন্য প্রাণী লোকালয়ে ঢুকলে তা দেখামাত্র পিটিয়ে মেরে ফেলা হতো। সেটা হিংস্র কিংবা নিরীহ প্রাণী, যাই হোক না কেন—তাকে হত্যা করতে হবে এমন নির্মম মানসিকতা ছিল গ্রামবাসীর। কিন্তু এখন আর সেই নির্মমতা কাজ করে না। কোনো বন্য প্রাণীকে পেলে তারা হত্যা করে না, বরং সযত্নে ধরে তা বনে ফিরিয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন

বনের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার হলেও তাকে এখন হত্যা করে না কেউ। বিভিন্ন সংগঠনের প্রচেষ্টায় সচেতনতা বেড়ে প্রাণীটির প্রতি নমনীয় হয়েছে মানুষ। ফলে প্রাণী ও মানুুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব কমে এসেছে বহুলাংশে।

পূর্ব সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে গত ছয় মাসে হিংস্র, বিষধর ও নিরীহ মিলিয়ে মোট ১৭টি বন্য প্রাণী ফেরত পাঠানো হয়েছে বনে। এর মধ্যে রয়েছে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ১০টি অজগর, দুটি কিং কোবরা, একটি দাঁড়াশ সাপ ও তিনটি চিত্রল হরিণ। মানুষের সচেতনতায় এসব বন্য প্রাণী মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওয়াইল্ড টিম, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি), ফরেস্ট টাইগার রেসপন্স টিম (এফটিআরটি), বাঘ বন্ধু এবং টাইগার স্কাউট নামের এই সংগঠনগুলো সুন্দরবন থেকে চলে আসা বন্য প্রাণী সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়া সুন্দরবন সহব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি) এবং কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরাও কাজ করছেন। এসব সংগঠনের সদস্যরা লোকালয় থেকে প্রাণী উদ্ধার করে বনে ফেরত দেওয়া, বনের ভেতর ও লোকালয়ে কোনো বন্য প্রাণী আহত বা অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং বনের পাশের মানুষকে সচেতন করার কাজটি করছেন তাঁরা। তাঁদের এই কাজে সহায়তা প্রদান করছে বন বিভাগ।

এদিকে এসব বন্য প্রাণী বন ছেড়ে অহরহ লোকালয়ে চলে আসার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বনের প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংসই হচ্ছে এর অন্যতম কারণ।



সাতদিনের সেরা