kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

রাজশাহীর পবা

পদ পেয়েই নেতাকর্মীদের মারধর আ. লীগ নেতার

পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ পেয়েছেন বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব আলী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৪ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সভাপতি হয়েই নিজ দলের নেতাকর্মীদের পেটালেন রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা সোহরাব আলী। গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। স্থানীয় একটি মাদরাসার জমিও বিক্রি করেছিলেন গোপনে। এবার তিনিই পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আর সভাপতি হয়েই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিন (৬৫) ও তাঁর ছেলে গালিব হোসেনকে (৩৫) পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। আহত গালিব রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের গণযোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক। গত বুধবার রাত ৮টার দিকে মারধরের এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত ১৯ জুন পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি করা হয় সোহরাব আলীকে। আগে থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে মাদরাসার জমি বিক্রি করাসহ নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করার অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে গত ১৬ জুন সংবাদ সম্মেলন করেন ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফাহিমা বেগম। ওই সংবাদ সম্মেলনে ফাহিমা বেগম সোহরাবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তাঁকে সভাপতি পদ না দেওয়ার জন্য দলের নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানান। কিন্তু তার পরও গত ১৯ জুন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তাঁকেই সভাপতি করা হয়। আর সভাপতির পদ পেয়েই গত বুধবার রাতে নিজ দলের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গালিবকে ধরে নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আটকে রেখে মারধর করেন।

আহত গালিব বলেন, ‘আমি রাত ৮টার দিকে পারিলা বাজারের একটি দোকানে জিনিস কেনার জন্য যাই। এ সময় পেছন থেকে সোহরাবের দুই ভাই সাইফুল ও আসাদুল আমাকে জাপটে ধরে টেনেহিঁচড়ে পাশের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নিয়ে যান। এরপর সোহরাব ও তাঁর দুই ভাই মিলে আমাকে লাঠি দিয়ে পেটানো ছাড়াও কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। খবর পেয়ে আমার বাবা প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল উদ্দিন আমাকে উদ্ধার করতে এলে তাঁকেও ঘুষি মেরে আহত করেন সোহরাব। ’

আহত আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ১৬ বছর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম, কিন্তু আমার গায়েও হাত তুলতে বাধেনি সোহরাবের। এই বয়সে এসে একজন বিতর্কিত নেতার হাতে মার খাওয়ার চেয়ে আত্মহত্যা করে নিজের সম্মান বাঁচানোই বড় কাজ। আমি লজ্জায় এখন আর মুখ দেখাতে পারছি না। এর বিচার চাইব কি করে?’

 



সাতদিনের সেরা