kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

রংপুর

মধ্যবিত্ত পরিবার বেকায়দায়

ক্রেতাদের নিত্যপণ্য কিনতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে ক্রেতাদের সঙ্গে দাম নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়,বাবুল মিয়া,ব্যবসায়ী, রংপুর পৌর বাজার

নজরুল ইসলাম রাজু, রংপুর   

২৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় রংপুরের নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো তো বিপদে পড়েছেই, এর পাশাপাশি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বেকায়দায় পড়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে শহরের বাজার ঘুরে ও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা আজিজ মিয়া জানান, মাসে বেতন আসে ২৮ হাজার টাকা। এই বেতন দিয়ে আগে টেনেটুনে সংসার চলাতেন।

বিজ্ঞাপন

এখন চালাতে পারছেন না। বেতনও বাড়ছে না। এদিকে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তিনি বলেন, ‘এত অল্প বেতন দিয়ে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে আমাদের। ’

আরেকটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বেতন পাই ১৮ হাজার টাকা। আট বছর ধরে একই বেতন, বাড়ে না। আগে এ দিয়েই সংসার চালাতাম। টানাপড়েন লেগেই থাকত। এখন বেতন না বাড়ালে কী করব?’

এদিকে গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে আলু ও পেঁয়াজের। দুই-তিন দিন ধরে কমতে শুরু করছে শসার দাম। তবে লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে তেল, আটা, ময়দা, চিনি, মসুর ডাল, লবণ, চালসহ নিত্যপণ্যের দাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এপ্রিলে সবজির বাজার লাগামহীন হতে শুরু করে। মের প্রথম দিন থেকে শেষ পর্যন্ত পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি, রসুন ১২৫-১৩০ টাকা কেজি, মসুর ডাল ১২০-১৪০ টাকা কেজি ছিল। এ ছাড়া গুঁড়া সাবান কেজিতে ১০ টাকা বাড়ে। তেল ২০০ টাকা লিটার, আটা ৩৫ থেকে ৪৫ কেজি, ময়দা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, চিনি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা ছিল। চলতি মাসে সব জিনিসের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম বেড়ে গেছে। গতকাল লতা চাল ৫০-৫৫ কেজির বস্তা ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকা খুচরা ও পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট চাল বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা বেড়ে এখন তিন হাজার থেকে তিন হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন নামে চাল প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। ভোজ্য তেলের মধ্যে শুধু সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুর পৌর বাজার ব্যবসায়ী মেসার্স বাবুল স্টোরের মালিক মো. বাবুল মিয়া বলেন, ‘এক মাস আগে থেকে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তেলের দাম বেড়ে ২০০ টাকা লিটার। এতে ক্রেতাদের নিত্যপণ্য কিনতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে ক্রেতাদের সঙ্গে দাম নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। ’

রংপুর জেলা তেল ও চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী মো. জুন্নুন বলেন, চিনি ও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি। এর ফলে দেশে দাম বাড়ছে। কিছু করার নেই।

তবে মিল মালিকরা সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলেও পণ্যের দাম বাড়ে। আর মিল মালিকরা তাঁদের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখলে এই সমস্যা হয় না।

 



সাতদিনের সেরা