kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

প্রভাবশালীদের বালু লুট এলাকাবাসী ভয়ে চুপ

নান্দাইলে ব্রহ্মপুত্র নদের চর

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রভাবশালীদের বালু লুট এলাকাবাসী ভয়ে চুপ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরভেলামারী এলাকায় চলছে বালু উত্তোলন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ইজারাবিহীন বালু উত্তোলন করে প্রকাশ্যেই রাখা হচ্ছে স্তূপাকারে। সেখান থেকে ট্রাক্টর ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে। জানতে পারলে প্রশাসন অভিযান চালায় থেমে থেমে। আর ওই সময় ড্রেজার, ভেকুসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি জব্দও করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আটক করা হয় বহনকারী যানবাহন ও শ্রমিকদের, কিন্তু থেমে থাকেনি বালু উত্তোলন। যেন চোর-পুলিশ খেলা। দিনের শেষ দিকে শুরু করে রাতভর নদের বুক চিড়ে নিয়ে যাচ্ছে শত শত ট্রাক্টর ভর্তি করে বালু।

অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও অনেককে ম্যানেজ করে এই অবৈধ খেলায় মেতে উঠেছেন। এ ঘটনা ঘটছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরভেলামারী এলাকায়।

প্রভাবশালীদের আশকারা পেয়ে বালু উত্তোলন হচ্ছে। এ অবস্থায় সারা বছরই ব্রহ্মপুত্র নদে চলে ভাঙনের তাণ্ডব। দিনের পর দিন জনবসতি, বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে যাচ্ছে। প্রভাবশালীদের ভয়ে কথা বলতে পারছে না এলাকাবাসী।

ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পারে নান্দাইল ও পশ্চিম পারে ত্রিশাল উপজেলা। সরেজমিনে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে দেখা যায়, নদের পার পর্যন্ত বিস্তৃত নান্দাইল উপজেলার চরভেলামারী গ্রাম। গ্রামটিকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নদের পারে রয়েছে বেড়িবাঁধ। বেড়িবাঁধের অনেকটা নিচ থেকে সমতল চর ভেকু দিয়ে কেটে বালু বিক্রি করা হচ্ছে।

চরভেলামারী গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনেরবেলা ট্রাক্টরে করে বালু পরিবহন করা হয়। সন্ধ্যার পর থেকে ড্রাম ট্রাক এই কাজ করে। নদের চরে যাওয়ার সময় কথা হয় ট্রাক্টরচালক সুমনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘স্যার, আমি ভাড়ায় ট্রাক্টর চালাই। ’

কারা আপনাকে ভাড়া করেছে জানতে চাইলে সুমন বলেন, ‘আমার পেডো লাথি দেইন না যে। ’  

ঘাট থেকে অনেকটা দূরে তাকিয়ে দেখা যায়, বালুবোঝাই অনেকটি ট্রাক্টর পারের দিকে আসছে। তবে তারা কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। ইশারা দিলেও তাদের কেউ ট্রাক্টর থামায়নি। এ সময় ছাতা মাথায় এগিয়ে আসেন মো. শমসের আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তি। তিনি চরভেলামারী গ্রামের বাসিন্দা ও নিজেকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে দাবি করেন।

শমসের আলী বলেন, ‘ভাই, এসব নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি করার কী দরকার। আমরা কিছু একটা করে খাচ্ছি তাতে আপনাদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। চাইলে আপনারাও পাবেন। অনেককেই তো ম্যানেজ করা হচ্ছে। ’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই অঞ্চলের দুটি হত্যা মামলার বেশ কয়েকজন অভিযুক্তসহ (জামিনে মুক্ত) স্থানীয় সরকারদলীয় নেতা ও পাশের গফরগাঁও উপজেলার বেশ কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী এই কর্মের সঙ্গে জড়িত। তাঁরা নাকি সব ম্যানেজ করেই নির্বিঘ্নে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন নিজেদের পকেটে

ভরছেন লাখ লাখ টাকা। অথচ

নেই কোনো ধরনের সরকারি ইজারা।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল মনসুর বলেন, ‘যখন বালু উঠানোর খবর পাওয়া যায় তখনই সেখানে অভিযান চালানো হয়। ’

 

 



সাতদিনের সেরা