kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

ফসলি জমিতে পুকুর খনন

রাজশাহীতে কাটা হচ্ছে বাগানও

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফসলি জমিতে পুকুর খনন

রাজশাহীর দুর্গাপুরের ফলিয়ার বিলের অন্তত ২৫ বিঘা জমিতে ৮-১০ দিন ধরে একটি বিশালাকার পুকুর খনন চলছে। অথচ কয়েক দিন আগেই এ জমিতে ছিল বোরো ধান। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহীতে তিন ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন চলছেই। বাদ যাচ্ছে না আমবাগানও। এমনকি নদীতে বাঁধ দিয়েও করা হচ্ছে মাছ চাষ। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করলেও নীরব প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

ফলে কেউ কোনো প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার দুর্গাপুরের ফলিয়ার বিলের অন্তত ২৫ বিঘা জমিতে ৮-১০ দিন ধরে একটি বিশালাকার পুকুর খনন চলছে। অথচ কয়েক দিন আগেই এ জমিতে ছিল বোরো ধান। ধান কেটে নিয়ে সেই জমিতেই এখন চলছে পুকুর খনন।

স্থানীয় আবু জাফর বলেন, ‘এই জমিতে ধানসহ বছরে তিনটি ফসল হতো। এখন আর কিছুই হবে না। এভাবে গত কয়েক বছরে এই বিলের অন্তত দুই হাজার বিঘা ফসলি জমি কেটে পুকুর করা হয়েছে। ’ তিনি আরো জানান, স্থানীয় হযরত আলীসহ কয়েকজন মিলে পুকুরটি খনন করছেন। এলাকাবাসী ফোন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগও দিয়েছেন। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

দুর্গাপুরের দেবীপুর গ্রামে আয়চাঁন নদীর চার স্থানে বাঁধ দিয়ে চলছে মাছ চাষ। নদী রক্ষায় স্থানীয় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনকে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো লাভ হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ওই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল আলম ও মোয়াজ্জেম হোসেন প্রভাব খাটিয়ে এ কাজ করছেন। এ নিয়ে গত ১১ মে কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এদিকে বাঘা উপজেলার বলিহার গ্রামের স্বপন সরকার, সুনিল সরকার মিলে তাঁদের সাড়ে ৯ বিঘা জমির আমবাগান কেটে পুকুর খনন করছেন। কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে ভূমি আইন উপেক্ষা করে খনন করা হচ্ছে পুকুর। এভাবে বাঘা পৌরসভার উত্তর মিলিকবাঘা, বলিহার, চাকিপাড়া, বাজুবাঘা ইউনিয়নের বার খাদিয়া, মনিগ্রাম ইউনিয়নের তুলসীপুর, পাকুড়িয়া, আড়ানী ও বাউসা ইউনিয়নে  পুকুর খননের মহোৎসব চলছে।

এ বিষয়ে বাঘা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোমিনুল হক বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে চলছে পুকুর খনন। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ’

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘পুকুর খননের বিষয়ে অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু থেমে নেই এ কাজ। তার পরও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। ’

অন্যদিকে মোহনপুর উপজেলার সাদিকুল ও করিম অন্তত এক হাজার বিঘা কৃষিজমি ধ্বংস করে বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন করে চলছেন। সর্বশেষ তাঁরা তানোর উপজেলার লবাতলা ব্রিজের উত্তর-পশ্চিম দিকের বিশাল আয়তনের ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করছেন। অথচ বিলের কৃষিজমিতে সেচ সুবিধার জন্য প্রায় ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পাশ দিয়ে খাল খনন চলছে। কিন্তু পুকুর খননের ফলে এই খাল আর কোনো কাজে আসবে না।



সাতদিনের সেরা