kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

চার খালজুড়ে অবৈধ স্থাপনা

দেবদাস মজুমদার, পিরোজপুর (আঞ্চলিক)   

২৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চার খালজুড়ে অবৈধ স্থাপনা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হরিমন্দিরসংলগ্ন খাল দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া শহর ঘিরে আছে চারটি খাল। প্রবহমান এ খালগুলোর দুই তীরের কয়েক কিলোমিটার এলাকা প্রভাবশালীদের দখলে। সেই সঙ্গে খালের দুই তীর ময়লা, বর্জ্য ফেলাসহ শৌচাগারের পাইপ থাকায় এর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উদ্যোগ নিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ বন্দর থেকে শুরু হয়ে মিরুখালী ইউনিয়ন বাজার ৯ কিলোমিটার, শহর থেকে তুষখালী লঞ্চঘাট পর্যন্ত সাত কিলোমিটার ও মাছুয়া বলেশ্বর নদের মোহনা পর্যন্ত এই খাল। একসময় যাত্রী ও মালবাহী নৌকা, ট্রলার এই খাল দিয়ে চলাচলা করত। উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকার মাধ্যম ছিল এটা। এ ছাড়া সেচকাজে এর পানি ব্যবহার করা হতো। মঠবাড়িয়া প্রথম শ্রেণির পৌরসভার দক্ষিণ বন্দর এলাকায় তিনটি শাখা খালের মোহনা। এ মোহনা স্থল থেকে মঠবাড়িয়া-আন্ধারমানিক খালের এক কিলোমিটার, মঠবাড়িয়া-বহেরাতলা খালের এক কিলোমিটার, মঠবাড়িয়া-মাছুয়া খালের দেড় কিলোমিটার ও মঠবাড়িয়া-গুলিসাখালী খালের এক কিলোমিটার এলাকার দুই তীর দখল করেছে প্রভাবশালীরা। শহরের দক্ষিণ বন্দর জলকপাট ও সেতুসংলগ্ন তিন খালের মোহনার চারপাশ জুড়ে দখলদাররা নির্বিঘ্নে খালের ভেতর পাকা স্থাপনা গড়ে তুলে মোহনা সংকুচিত করে ফেলেছে। ওই মোহনার প্রধান খালে কয়েক বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি সংকুচিত জলকপাট নির্মাণ করে। এ সুযোগে প্রভাবশালীরা এর চারপাশ দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এ ছাড়া ওই একই খালের থানাপাড়ার টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের কাছে ১৫ বছর আগে একটি বাঁধ দিলে মঠবাড়িয়া-গুলিসাখালী খালটির পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। শহরের মুচিপাড়ার মিরুখালী প্রবহমান খালের মাঝখানে অপরিকল্পিত কালভার্ট ও দক্ষিণ বন্দর জলকপাটের সুযোগে শহরের প্রভাবশালীরা চারটি খালের দুই তীর দখলে নিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে খাল সংকুচিত করে ফেলে।

স্থানীয়রা জানায়, খালের দুই তীরে সীমানা পিলার না থাকায় দখল থামানো যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা খান বলেন, ‘জেলা পরিষদের আওতাভুক্ত সব খালে অবৈধ স্থাপনার তালিকা করে উচ্ছেদের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। ’

পৌরসভার নবনিযুক্ত প্রশাসক ও মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উর্মী ভৌমিক বলেন, ‘চার খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া এগুলো দূষণমুক্ত করতে দ্রুত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ’

 

 



সাতদিনের সেরা