kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

দরিদ্র জেলেদের চাল পেয়েছে ধনীরা

চিতলমারীতে সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম

চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দরিদ্র জেলেদের চাল পেয়েছে ধনীরা

সুবিধাবঞ্চিত জেলে সমীর বিশ্বারের পরিবার। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার দরিদ্র জেলেদের জন্য বরাদ্দের চাল পেয়েছেন ধনীরা। এ ঘটনায় দরিদ্র জেলেরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানায়, বছরের নভেম্বর মাসে মা ইলিশ সংরক্ষণকালে একবার ও জাটকা নিধন বন্ধকালে চারবার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দরিদ্র জেলেদের চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু এবার কার্ডধারী দরিদ্র জেলেরা ওই চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তাঁদের বদলে চাল পেয়েছেন এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তিরা।

সুবিধাভোগী মনিমোহন বিশ্বাসের আলিশান ভবন।   ছবি : কালের কণ্ঠ

চিতলমারী সদর ইউনিয়নের সাবোখালী জেলে পল্লীর বৃদ্ধ রেবতি বিশ্বাস বলেন, গত ১৯ মে চিতলমারী সদর ইউনিয়নে মৎস্যজীবী কার্ডধারীদের মধ্যে জনপ্রতি ৩২ কেজি ৫০০ গ্রাম চাল বিতরণ করা হয়। ৫০টি পরিবার ওই চাল পায়। যাঁরা চাল পেয়েছেন তাঁদের বেশির ভাগই ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। সাবোখালী গ্রামের ধনাঢ্য মনিমোহন বিশ্বাসের পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে চাল দেওয়া হয়েছে। তাঁর ছেলে সঞ্জয় বিশ্বাস, শ্যালক অমল বিশ্বাস ও পরিতোষ বিশ্বাসও চাল পেয়েছেন। অথচ একই গ্রামের দরিদ্র জেলে সমির বিশ্বাস, বাসুদেব বিশ্বাস, খোকন বিশ্বাস, শচিন বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, বাদল বিশ্বাস, সুধন বিশ্বাস ও হরেন বিশ্বাসের মতো অসহায় ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়েছেন।

নিজের জীর্ণ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দরিদ্র জেলে সমির বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা দিন আনি, দিন খাই। সরকার আমাদের কষ্টের কথা ভেবে কার্ড করে দেছে। মাঝে মধ্যি চাল দেয়। কিন্তু সেই চাল আমরা ঠিকমতো পাই না। চাল পাইছে বড়লোকেরা। আর আমার মতো দরিদ্র মানুষরা বঞ্চিত হইছি। ’

সাবোখালী জেলেপাড়ার ধনাঢ্য ব্যক্তি মনিমোহন বিশ্বাস চাল পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমিও একজন কার্ডধারী মৎস্যজীবী। সরকার আমাকে চাল দেয়, তাই নেই। ’

চিতলমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য কৃষ্ণপদ গাইন জানান, সাবোখালী গ্রামের জেলেদের নিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আওতায় আদিবাসী সমিতি রয়েছে। ওই সমিতির সভাপতি পংকজ বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস। তাঁরা বিভিন্ন সময় সরকারি বরাদ্দ স্বজনদের দিয়ে প্রকৃত জেলেদের বঞ্চিত করছেন। এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তি মনিমোহন বিশ্বাসের ছেলে মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস ওই আদিবাসী সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

এ ব্যাপারে আদিবাসী সমিতির সভাপতি পংকজ বিশ্বাস বলেন, ‘জেলেদের চাল দেওয়ার দায়িত্ব চেয়ারম্যানের। তিনিই তালিকা করে থাকেন। এর দায়ভার তাঁর। ’

চিতলমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন শেখ বলেন, ‘সাবোখালীর আদিবাসী সমিতির সভাপতি পংকজ বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসের দেওয়া তালিকা অনুসারে চাল বিতরণ করা হয়েছে। পরে শুনেছি দরিদ্র জেলেরা বঞ্চিত হয়েছে। ’

চিতলমারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ বলেন, ‘শুনেছি, ধনাঢ্য ব্যক্তিরাও চাল পেয়েছেন। এ ঘটনায় একটি অভিযোগও পেয়েছি। এখন বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব। ’



সাতদিনের সেরা