kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

আত্মহত্যা রোধে নেই কাউন্সেলিং

মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়   

২৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আত্মহত্যা রোধে নেই কাউন্সেলিং

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গত পাঁচ বছরে ৯ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। এর মধ্যে ২০১৮ সালেই পাঁচ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যা প্রতিরোধে নেই কোনো কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একটি ছাত্রাবাস থেকে ফার্মেসি বিভাগের নবীন ছাত্র আবিদ আজাদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশ কিছুদিন থেকে আবিদ বন্ধুদের কাছে হতাশা প্রকাশ করতেন। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তাঁর মনোমালিন্য ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ থাকলে এই মৃত্যু হয়তো ঠেকানো যেত।

এর আগে, গত বছরের ২ জানুয়ারি ঝিনাইদহ শহরের আদর্শপাড়ায় বাসায় আত্মহত্যা করেন ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ফাবিহা সুহা। তাঁর পরিবারে কলহ ছিল। ২০২০ সালের ২ অক্টোবর ক্যাম্পাসের পাশে ঝিনাইদহের শেখপাড়ায় বাড়িতে আত্মহত্যা করেন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্রী উলফাত আরা তিন্নি। বড় বোনের সাবেক স্বামী তাঁকে নির্যাতন করেছিলেন।

২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল ক্যাম্পাসসংলগ্ন শেখপাড়ার এক ছাত্রাবাসে আত্মহত্যা করেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র সায়েমুজ্জামান খান সায়েম। মৃত্যুর আগে চার পৃষ্ঠার চিরকুট লিখে যান তিনি। এতে প্রেমঘটিত ও বিভাগের পড়ালেখা নিয়ে হতাশার কথা লেখা ছিল। একই বছরের ১০ আগস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের রোকনুজ্জামান ও মুমতাহিনা নামের স্নাতকোত্তরের দুই সহপাঠী আত্মহত্যা করেন। তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক পরিবার মেনে নিতে রাজি ছিল না। ১৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের ২২৯ নম্বর কক্ষে আত্মহত্যা করেন আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নাজমুল হাসান। তাঁর শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা ছিল। এ ছাড়া প্রেমঘটিত কারণে ডিসেম্বরে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের নবীন ছাত্রী ঐশী শিকদার আত্মহত্যা করেন।

২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া শহরের এক ছাত্রাবাসে আত্মহত্যা করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আতিকুর রহমান। চিরকুটে তিনি অসুস্থতা ও হতাশার কথা লিখে যান।

এদিকে একের পর এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করলেও নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি বা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার মতো কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি থাকলেও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাঁরা আত্মহত্যা প্রতিরোধে নিয়মিত কাউন্সেলিং, সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও স্থায়ীভাবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানান।

প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক রেবা মণ্ডল বলেন, ‘আত্মহত্যা শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, সারা দেশেই সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটি প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়মিত কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে জাতীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। ’

উপাচার্য শেখ আবদুস সালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মতো সম্ভাবনাময় জীবন এভাবে ঝরে যাওয়া অপ্রত্যাশিত এবং খুবই দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের জন্য বিশেষ একটি বিভাগ থাকলে ভালো হতো। শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়ে আমরা আলোচনা করব। এ ক্ষেত্রে সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সহযোগিতা প্রয়োজন। ’

 



সাতদিনের সেরা