kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

বগুড়ার শেরপুরে প্রশাসন নির্বিকার

ধানবোঝাই যানবাহন আটকে চাঁদাবাজি

কোনো ইজারাদার হাট এলাকার বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে খাজনা আদায় করতে পারেন না,ময়নুল ইসলাম,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শেরপুর

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধানবোঝাই যানবাহন আটকে চাঁদাবাজি

স্থানীয় হাট-বাজারের রসিদ বই দিয়ে বিভিন্ন সড়কের মোড়ে চাঁদা আদায় করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার শেরপুরে কৃষিপণ্য পরিবহনের যানবাহন আটকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় হাট-বাজারের রসিদ বই ব্যবহার করে বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে এই চাঁদাবাজি চলছে। আলুর পর এবার ধানবোঝাই প্রতিটি গাড়ি থেকে এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খাজনার নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। হাটের ইজারাদার সরকারদলীয় এক নেতার নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় কয়েকজন উচ্ছৃৃঙ্খল যুবকের সহযোগিতায় চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চাঁদাবাজদের এমন দৌরাত্ম্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ধান-চাল ব্যবসায়ীরা। এমনিতেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা বোরো ধান চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন। সেই সঙ্গে রয়েছে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। এ অবস্থায় সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজদের খড়্গ কৃষকদের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে গত মঙ্গলবার ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের জামাইল হাট, কুসুম্বী ইউনিয়নের আলতাদীঘি বোর্ডের হাট, বেলঘরিয়া হাট ও শহরের বারোদুয়ারী হাটকে ঘিরে স্থানীয় সড়কের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পাহারা বসানো হয়েছে। এমনকি এসব হাটের রসিদ বই ব্যবহার করে প্রতিদিন কৃষিপণ্য পরিবহনের ট্রাক, ভটভটি, নছিমন-করিমন ও পাওয়ার ট্রলি আটকে চাঁদা আদায় করছে সংঘবদ্ধ চক্রটি। এক মণ ধানে ১০ থেকে ১৫ টাকা হারে হিসাব কষে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। সেই হিসাবে ধানবোঝাই প্রতিটি যানবাহন থেকে এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা তুলছে তারা। তাদের দাবি করা চাঁদার টাকা না দেওয়া পর্যন্ত কৃষিপণ্য পরিবহনের গাড়িগুলো আটকে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদার টাকার সমপরিমাণ মালপত্রও যানবাহন থেকে নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদাবাজদের বেপরোয়া আচরণে অতিষ্ঠ উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সপ্তাহের দুই দিন শুক্রবার ও মঙ্গলবার জামাইল হাট বসে। অথচ প্রতিদিন ও রাতে হাটের রসিদ বই ব্যবহার করে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। এমনকি সরকার নির্ধারিত খাজনার পরিবর্তে অতিরিক্ত হারে খাজনার নামে চাঁদাবাজি করছে স্থানীয় উচ্ছৃৃঙ্খল একদল যুবক। তারা লাঠি হাতে সড়কে অবস্থান নিয়ে ধানবোঝাই গাড়িগুলো আটকে ইচ্ছেমাফিক চাঁদার টাকা আদায় করছে। এভাবে স্থানীয় কৃষকদের শোষণ করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করেও লাভ হচ্ছে না। কারণ সব মহলকে ম্যানেজ করেই নাকি এই টাকা আদায় করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে মামলা-হামলার শিকার হতে হবে বলেও হুমকিধমকি দিচ্ছেন চক্রটি। ’

ইজারাদারদের পক্ষে বারোদুয়ারী হাটের জাহাঙ্গীর আলম শাহীন বলেন, ‘বিগত দিনগুলোতে যেভাবে খাজনা আদায় করা হয়েছে, এখনো সেভাবেই আদায় করা হচ্ছে। এর পরও যে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে হাট ইজারা নেওয়া হয়, তা উত্তোলন করাই কঠিন হয়ে পড়ে। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘শর্ত সাপেক্ষে হাট ইজারা দেওয়া হয়। সেই শর্ত ভেঙে খাজনা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো ইজারাদার হাট এলাকার বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে খাজনা আদায় করেন, তাহলে অবশ্যই তিনি অন্যায় করছেন। ’

 

 



সাতদিনের সেরা