kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১০৮ রোগী

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

২৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১০৮ রোগী

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের বারান্দায়ও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। ছবি : কালের কণ্ঠ

মেহেরপুরে পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়া রোগী আবারও বাড়ছে। গত রবিবার সকাল থেকে গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০৮ জন। এর মধ্যে ১৭ জনের শরীরে কলেরা জীবাণু শনাক্ত হয়েছে।  

মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চার দিনের ব্যবধানে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে ৩২৪ জন।

বিজ্ঞাপন

এসব রোগীর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৩১ জন।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ নিপু আক্তার জানান, প্রতিদিনই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী আসছে হাসপাতালে। রোগীদের বেশির ভাগই পুরুষ এবং বয়সে তরুণ। ২৫ জন সেবিকা (নার্স) ছাড়াও অন্যান্য ওয়ার্ড থেকে নার্স এনে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাবনায় পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে আইইডিসিআরকে জানানোর পাশাপাশি নিয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। তবে স্যালাইনসহ অন্য ওষুধপত্র ও চিকিৎসাসেবা ভালো রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আইইডিসিআর থেকেও একটি টিম এসে ডায়রিয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসের ২০ দিন যেতে না যেতেই বৃদ্ধি পেয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ভর্তি রোগী থাকে ১০০ থেকে ১২০ জন। হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর জন্য ১০ শয্যা সংরক্ষিত থাকলেও রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালের তিনতলাবিশিষ্ট একটি আবাসিক ডরমিটরি ডায়রিয়া ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু তাতেও সংকুলান হচ্ছে না। ডরমিটরি ওয়ার্ডের প্রতিটি কক্ষে চারজন করে এবং হাসপাতালের বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।

ডায়রিয়া আক্রান্ত আলমগীর হোসেন, নিগার নেছা জানান, হাসপাতাল থেকে স্যালাইনসহ কিছু ওষুধ পাওয়া গেলেও বাইরে থেকেও বেশ কিছু ওষুধ কিনতে হচ্ছে। তবে নার্সদের সেবায় তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মোখলেছুর রহমান জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৮০ শতাংশ মেহেরপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের একজন আক্রান্ত হলেই বাকিরাও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

আইইডিসিআরের সহকারী মাঠ গবেষক রেজাউল করীম বলেন, ‘আমরা মেহেরপুরসহ ২২টি জেলায় কলেরার গবেষণায় কাজ করছি। গত চার দিনে হঠাৎ এ জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৭ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর স্যাম্পল পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জনের শরীরে কলেরার জীবাণু শনাক্ত হয়েছে, যা বাংলাদেশের কোনো জেলায় হয়নি। বিষয়টি উদ্বেগজনক। যাদের শরীরে কলেরার জীবাণু পাওয়া গেছে তাদের বেশির ভাগই শহরের বাসিন্দা। ’

মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, ‘ডায়রিয়া মূলত পানিবাহী রোগ। এ ছাড়া রাস্তার খাবার, বাসি-পচা খাবার খেলেও ডায়রিয়া হতে পারে। তবে ডায়রিয়া হওয়ার মূল কারণ দূষিত পানি। খাবার পানিসহ নিত্য ব্যবহার্য পানিও হতে হবে বিশুদ্ধ এবং নিরাপদ। ’

 



সাতদিনের সেরা