kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

বন্ধের ঝুঁকিতে ত্রিপুরা বিদ্যালয়

সীতাকুণ্ড

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্ধের ঝুঁকিতে ত্রিপুরা বিদ্যালয়

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ত্রিপুরাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিরতির ফাঁকে খেলায় মজেছে শিশুরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। চার বছর আগে এটি সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়। দুজনই শিক্ষক। গত দেড় বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

ফলে এই বিদ্যালয় এখন বন্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা খোকন ত্রিপুরা (১২) জানায়, সে গত বছর দ্বিতীয় শ্রেণি পাস করেছে। কিন্তু এখন আর পড়াশোনার সুযোগ নেই। কারণ একই বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার অনুমোদন আছে। ফলে সে এখন ঝরে পড়া ছাত্র।

শুধু সে নয়, দ্বিতীয় শ্রেণি পাসের পর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে এই গ্রামের শাকিল ত্রিপুরা (১০), রত্না ত্রিপুরা (১১), সুজিবালা ত্রিপুরা (১২), রূপবালা ত্রিপুরা (১১), নয়নবালা ত্রিপুরাসহ (১১) আরো ২০-২৫ শিক্ষার্থীর। এখন তারা পাহাড়ে চাষাবাদসহ অন্যান্য কাজ করে সময় কাটাচ্ছে।

এ অবস্থা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পাড়ায় ছেলেমেয়েদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পাড়ায় এক সপ্তাহে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল নড়েচড়ে বসে। এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পানীয়জলের সুব্যবস্থাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দে স্থাপন করা হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য তিনটি কক্ষ নির্মাণ করে দুজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।

দুটি ত্রিপুরা পাড়ার সাড়ে ৩০০ বাসিন্দা ও কাছাকাছি থাকা কিছু মুসলিম পরিবারের শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে শুরু করে।

সরেজমিনে গতকাল রবিবার ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি শ্রেণিতে মোট ১০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষিকা প্রিয়াংকা নাথ জানান, ২০১৮ সালে এটি চালু হয়। তাঁরা অনেক কষ্টে একসঙ্গে তিনটি শ্রেণি পরিচালনা করে আসছেন। এখন সমস্যা দেখা দিয়েছে, দ্বিতীয় শ্রেণি পাস করে সবাই ঝরে পড়ছে। কাছাকাছি কোনো বিদ্যালয় না থাকায় তারা দূরে গিয়ে পড়তে চায় না।

তিনি বলেন, ‘শুরু থেকে তাঁরা প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে বেতন পেতেন। গত দেড় বছরে আর কোনো বেতন পাননি। ’

ত্রিপুরা পাড়ার সহসরদার কাঞ্চন ত্রিপুরা বলেন, ‘স্কুলে নিয়মিত বেতন নেই। তাই যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুচ্ছোফা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, বিদ্যালয় স্থাপনের পর দুই বছর সরকারি বরাদ্দ ছিল। এরপর স্থানীয়ভাবে এটি চালানোর কথা। সেটা না হওয়ায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় বেতন চালু রাখার জন্য চেষ্টা চলছে।

 



সাতদিনের সেরা