kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

ঢাকনাবিহীন ১৯১ ম্যানহোল

রংপুরে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে

রংপুর অফিস   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকনাবিহীন ১৯১ ম্যানহোল

দীর্ঘদিন ধরে ১৯১ ম্যানহোলের ঢাকনা খোলা অবস্থায় পড়ে আছে। গতকাল রংপুর নগরীর পার্কের মোড় থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুর নগরীর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট থেকে লালবাগ পর্যন্ত এক হাজার ৪৫০ মিটারে ১৯১টি ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। পাশাপাশি মানুষের চলাচলের জন্য ফুটপাতে ড্রেনের কাজ চলছে ধীরগতিতে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট থেকে লালবাগ বাজার হয়ে কলেজপাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ৮০০ মিটারে এই ম্যানহোলের কাজ চলছে। খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশা করছে দপ্তরটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট (পার্ক মোড়) থেকে উপাচার্যের বাংলোর গেট পর্যন্ত আরসিসি ড্রেনের ১৬টি বড় ম্যানহোলের মুখের ঢাকনা নেই। উপাচার্যের বাংলোর গেট থেকে কারমাইকেল কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেট পর্যন্ত ১৪৯টি ছোট এবং কলেজিয়েট থেকে লালবাগ কারমাইকেল কলেজ গেট পর্যন্ত ২৬টি বড় ম্যানহোলের মুখ খোলা রয়েছে। প্রতি ১৫ ফুট পর পর ম্যানহোলের ঢাকনার ব্যবস্থা করা হলেও পুরোটাই খোলা রয়েছে।

এই ফুটপাত দিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজ ও কারমাইকেল কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শত শত শিক্ষার্থী হেঁটে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে।

এলাকাবাসী কামরুজ্জামান মিয়া জানান, গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে মেসে যাওয়া পথে ম্যানহোল দিয়ে ড্রেনে পড়েন কারমাইকেল কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার। পরে তাঁর সহপাঠীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। গত ৯ মার্চ আরো দুজন পড়ে।

ব্যবসায়ী মাহমুদুর রহমান জানান, ড্রেনের মুখের ঢাকনা না থাকায় যারা চলাচল করে, তাদের জন্য এটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ছাত্র-ছাত্রীরা দিনে সাবধানতা অবলম্বন করলেও সন্ধ্যার পর দুর্ঘটনায় পড়ে।

স্থানীয় গফুর উদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা হাঁটলে আতঙ্কে থাকে। কখন কে পড়ে যায়।

কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ (মানবিক) শ্রেণির ছাত্রী সুলতানা ইয়াসমিন বলেন, ‘কলেজ থেকে বের হলেই তো হেঁটে হেঁটে যাওয়া লাগে মেসে। খুব ভয় লাগে। পা পিছলে পড়ে গেলে সব শেষ হবে। ’

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র হিমেল মিয়া বলেন, ‘ড্রেনের ওপর দিয়ে হাঁটতে গিয়ে মনে হয় যেন জীবনটা হাতে নিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। ’

ঠিকাদার মাশরুর রহমান নীলয় জানান, প্যাকেজের কাজ প্রায় শেষের দিকে। কিছু কিছু স্থানে ঢাকনা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৪১টি চুরি হয়েছে। সিটি করপোরেশনে তিন মাস আগে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আজম আলী জানান, ড্রেনের কাজ শেষ হলেও অন্য প্যাকেজগুলোর কাজ চলছে। সব প্যাকেজের কাজ জুনে শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে ঢাকনাগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘খোলা ম্যানহোলের মুখে ঢাকনা দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে বলেছি। ’

 



সাতদিনের সেরা