kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

বনভূমি দখল, উঠছে স্থাপনা

চকরিয়া

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

২২ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বনভূমি দখল, উঠছে স্থাপনা

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী বন বিট কার্যালয়ের পাশের বনভূমি দখলের পর চলছে মাটি ও বালু ভরাটের কাজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বনবিট কার্যালয়ের নাকের ডগায় সংরক্ষিত বনভূমি দখলের পর সেখানে মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণকাজের প্রস্তুতি চলছে। গত ১৫ দিন ধরে প্রকাশ্যে এই ঘটনা ঘটলেও বন বিভাগের কর্মকর্তারা রহস্যজনক কারণে নীরবতা পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের লামা-আলীকদম সড়কের চকরিয়ার রিংভং অংশে এই দখলবাজির ঘটনা চলছে।

অবশ্য স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দিন আগে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখনো পর্যন্ত দখলবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

উপরন্তু অভিযুক্তদের পক্ষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

এর আগে প্রকাশ্যে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করা নিয়ে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলার হাঁসেরদিঘীর বাসিন্দা রুহুল কাদের। তিনি অভিযোগ করেন, ফাঁসিয়াখালীর রিংভং এলাকায় চকরিয়া-লামা-আলীকদম সড়কের পাশে এবং ফাঁসিয়াখালী বনবিট কার্যালয়ের অদূরে সংরক্ষিত বনভূমির বিশাল এলাকা দখলে নিয়ে সেখানে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। আবার অন্য স্থান থেকে বালু এনে অপেক্ষাকৃত নিচু বনভূমি ভরাটেরও কাজ চলমান রয়েছে। এতে আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও দখলবাজদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে দখলবাজরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। একই সঙ্গে দ্রুত সংরক্ষিত বনভূমি দখলের পর সেখানে স্থায়ীভাবে স্থাপনা নির্মাণের জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছেন তাঁরা।

তবে নেকম-ক্রেল প্রকল্পের কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘আমাদের সংস্থার ভাতাভোগী কোনো সিপিজি সদস্য যদি বন রক্ষার বদলে বনভূমি দখল করেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বন বিভাগকেও তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিতভাবে জানানো হবে। ’

তবে বনভূমি দখলে অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন জানান, তিনি কোনো বনভূমি দখলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। যে জায়গাটি এক্সকাভেটর দিয়ে কাটা হয়েছে এবং ভরাট করা হচ্ছে—সেটি তাঁদের খতিয়ানভুক্ত জায়গা।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘এক ইঞ্চি বনভূমিও কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না। যাঁরাই এই অপকর্মে লিপ্ত থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ফাঁসিয়াখালী বিট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’



সাতদিনের সেরা