kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

রাজবাড়ীতে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজে নয়ছয়ের অভিযোগ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

২১ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজবাড়ীতে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজে নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শুরুর পর প্রকল্পের শ্রমিক কমিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অর্থ। আবার প্রকল্পের তালিকায় নাম পরিবর্তনের কথা বলেও অনেক শ্রমিকের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু কাজ বন্ধ থাকলেও টাকা তোলা হচ্ছে সব শ্রমিকেরই।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সদর উপজেলায় ৩১টি প্রকল্পে এক হাজার ১৮ জন শ্রমিক রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তাঁরা প্রতিদিন ৪০০ টাকা করে হাজিরা পাওয়ার কথা। মাস শেষে তাঁদের বিকাশ নম্বরে এ টাকা পেয়ে থাকেন। সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের ভুদুরদিয়া সালেহ আহম্মেদের বাড়ি থেকে রশিদের বাড়ি পর্যন্ত একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ওই প্রকল্পে প্রতিদিন ৪৩ জন শ্রমিক কাজ করার কথা, কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার পর সেখানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ২৭ জন শ্রমিক কাজ করছেন।

শ্রমিকরা বলেন, ‘আমরা গত শনিবার (১৪ মে) থেকে ২৭ জন শ্রমিক কাম করছি। কিছু সময় আগে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব স্যার আইছিল, আমরা কয়জন কাম করছি দ্যাহে গেলো। ’

বাণীবহ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমিক ইসলাম শেখ। নিজের কোনো জায়গাজমি না থাকায় সরকারি জমিতেই বসবাস করেন। তাঁর আয়ের ওপর নির্ভর করে চলে ছয় সদস্যের সংসার। তিন দিন কাজ করার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহেব আলী তাঁর নাম বাদ পড়েছে জানিয়ে তাঁকে কাজে আসতে নিষেধ করেন। মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে তাঁকে সকাল থেকেই কাজে যেতে বলে। তবে ইউপি সদস্য সাহেব আলী তাঁকে পরে সহযোগিতা ও কাজের ব্যবস্থা করবেন জানিয়ে তাঁকে আবারও কাজে যেতে নিষেধ করেন।

এলাকাবাসী জানান, সব কটি ইউনিয়নে কাজের মান একই ধরনের। সরকারি টাকা যাতে তছরুপ না হয় সে লক্ষ্যে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার বিধান, কিন্তু অনেক জায়গায় মোবাইলের সিম জনপ্রতিনিধিদের কাছে গচ্ছিত রেখে দুর্নীতি করা হচ্ছে।

পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লিটন বলেন, ‘যে কয়জন কাজ করছে, সেই কয়জনই কাজ করার কথা। অফিসে খোঁজ নেন। ’ পাচুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান রতন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সচিবের সঙ্গে কথা বলেন। আমি বাইরে আছি। ’

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মার্জিয়া সুলতানা বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যদি ২৭ জন কাজ করেন তাহলে ২৭ জনের বিলই পাবেন। কাজ না করে বিল নেওয়ার সুযোগ নেই। ’



সাতদিনের সেরা