kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

মেলার নামে চলছে জুয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

১৯ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মেলার নামে চলছে জুয়া

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চলছে তাঁত, বস্ত্র ও শিল্প মেলা। কিন্তু পাঁচ উপজেলাজুড়ে প্রায় ২৫০টি মাইকে প্রচার করা মেলার বিবরণের বদলে মোটরসাইকেল, স্বর্ণের চেইন থেকে শুরু করে সয়াবিন তেলের জারের লোভনীয় সব অফার দিয়ে লটারিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান করছেন। ৫১টি পুরস্কারের লোভে পড়ে ২০ টাকা মূল্যের টিকিট কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের হাজার হাজার মানুষ। প্রতিজন পাঁচ-দশটি, এমনকি ২০-৩০টি পর্যন্ত টিকিট কিনছে অনেকেই।

বিজ্ঞাপন

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে তাঁত বস্ত্র ও শিল্প মেলার অনুমোদন নিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী স্থানীয় একটি মহল লটারির নামে জুয়া তথা র‌্যাফল ড্র চালাচ্ছে। আর এ খেলায় মেতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। মেলা শুরুর পর থেকে গত ১২ দিনে কমপক্ষে সাড়ে তিন কোটি টাকা মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুরো মাস মেলা চললে এ অঙ্ক দাঁড়াবে ৮-৯ কোটি টাকা।

এদিকে গত মঙ্গলবার (১৭ মে) কিশোরগঞ্জ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় মেলার অনুমতি নিয়ে বেপরোয়া জুয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। কমিটির অন্যতম সদস্য, কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মো. মোস্তাকুর রহমান জুয়ার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে লটারি তথা র‌্যাফল ড্রর নামে জুয়া খেলা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন। কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিও জেলা প্রশাসকের কাছে জুয়া খেলা বন্ধের দাবি জানিয়ে আবেদন করেছে।  

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জৌতিশ্বর পাল জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক তাঁকে বলেছেন, আজ-কালের মধ্যে মেলার বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে। তিনি প্রতিবেদন দিলে মেলা বন্ধ করে দেওয়া হবে।       

গত ৫ মে থেকে শুরু হওয়া কথিত মেলার আয়োজক কটিয়াদী পৌরসভা। মেলার গেটের মুখেই বিক্রি হচ্ছে লটারির টিকিট। প্রবেশ টিকিটের মূল্য ২০ টাকা।

কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘মেলার নামে জুয়া খেলা হচ্ছে। এতে ভিকটিমাইজড হচ্ছে গরিব মানুষ। কটিয়াদী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাও জুয়া বন্ধের কথা বলেছেন। ব্যক্তিগতভাবে জেলা প্রশাসককেও জুয়া বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি। ’



সাতদিনের সেরা