kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

রাঙামাটি

এক কাজের দুই দরপত্র

লংগদু কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির ভবন নির্মাণকাজ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা

ফজলে এলাহী, রাঙামাটি   

১৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ‘লংগদু কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি’র ভবন নির্মাণের জন্য আলাদা দরপত্র আহ্বান করেছে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। নির্মাণকাজ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ‘লংগদু উডমার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফিস বিল্ডিং’-এর দরপত্র নোটিশ প্রকাশ করে গত ৯ মে। এর প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২০ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

মাত্র এক দিন সময় দিয়ে এই দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। আগামী পহেলা জুন কাজ শুরু করে ২৯ জুনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

এদিকে ‘লংগদু কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি’র ভবন নির্মাণের জন্য ‘কনস্ট্রাকশন অব কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি অফিস অ্যাট লংগদু উপজেলা’ নামে গত ৬ এপ্রিল আরেকটি দরপত্র আহ্বান করে পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদ। দরপত্রে পহেলা মে থেকে ৩১ মের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। এর প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয় ১০ লাখ টাকা। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের জন্য থোক বরাদ্দ থেকে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার তথ্য আছে ওটিএমে করা এই দরপত্রে।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়া বলেন, ‘সম্ভবত একই সংগঠন একই সময়ে ভবন চেয়ে দুই জায়গায় আবেদন করায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাই আমরা প্রকল্পের কাজটি আপাতত বন্ধ রাখব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা বলেন, ‘প্রকল্প গ্রহণের আগে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। এই প্রকল্প নিয়ে তৈরি হওয়ার জটিলতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ’

লংগদু কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. সাদেক বলেন, ‘আমরা দুই প্রতিষ্ঠানের কাছেই ভবন চেয়ে আবেদন করেছিলাম। তবে এ বিষয়ে দরপত্রের আহ্বানের বিষয়টি আমরা এখনো জানি না। ’

এ বিষয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) জেলা সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, ‘পার্বত্যবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ও পাহাড়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু তারাই যদি সমন্বয়হীনতার কারণে একই সংগঠনের একই কাজ করে দেওয়ার জন্য দুই নামে দরপত্র আহ্বান করে—সেটা দুঃখজনক। ’



সাতদিনের সেরা