kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

বোয়ালখালীতে আশ্রয়ণ প্রকল্প

দেবে গেল টিলায় তৈরি করা ঘর

♦ ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা
♦ ‘সরকারের পাহাড় সরকার কাটছে, অসুবিধা কোথায়?’

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেবে গেল টিলায় তৈরি করা ঘর

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কড়ল ডেঙ্গা ইউনিয়নের হজরত বুন্দ আলী কালন্দর শাহ (রা.) মাজারসংলগ্ন পাহাড়ি টিলা কেটে নির্মাণাধীন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেবে গেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

টিলা কেটে আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরি করছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসন, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এদিকে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই আশ্রয়ণের ঘরগুলো দেবে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গুচ্ছগ্রাম ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত ৬০টি ঘরের নির্মাণকাজ উদ্বোধন হয় গত ২৬ এপ্রিল। তার মধ্যে ৫৩টি কড়ল ডেঙ্গা ইউনিয়নের হজরত বুন্দ আলী কালন্দর শাহ (রা.) মাজারসংলগ্ন পাহাড়ি টিলা এবং সাতটি শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যোষ্টপুরা এলাকায়।

বিজ্ঞাপন

এ ঘরগুলো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা। ঘরগুলোর নির্মাণকাজ তদারকি করছেন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিনা আকতার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুজন কান্তি দাশ। এ ঘরগুলো নির্মাণে কোনো ধরনের দরপত্র না হলেও শ্রমিক আনা হয়েছে নীলফামারী ও সিলেট থেকে।

গতকাল সোমবার সরেজমিন দেখা গেছে, পাহাড়ের টিলা কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে আশ্রয়ণের ঘরগুলো। গ্রেট বিম, পিলার জমিয়ে ও ইটের গাঁথুনি দিয়ে দুই ইউনিটের দেয়াল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। বাকি কয়েকটি ইউনিটের গ্রেট বিম জমানো হয়েছে। ইট, বালু, সিমেন্টসহ নির্মাণ সামগ্রীগুলো পড়ে আছে অরক্ষিতভাবে। এই প্রতিবেদক গিয়ে কাউকে দেখতে পাননি। এরই মধ্যে একটি ইউনিটের এক পাশের গ্রেট বিম ও পিলার দেবে গেছে। ইটের গাঁথুনি দেওয়া দেয়ালটিও একপাশে দেবে গ্রেট বিম থেকে আলগা হয়ে প্রায় চার-পাঁচ ইঞ্চি ফাঁকা হয়ে গেছে। অন্য একটি ইউনিটের একটি দেয়ালে ফাটলও দেখা যায়। কয়েকটি জায়গায় দেয়াল তোলার আগে গ্রেট বিম দেবে যেতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, এভাবে পাহাড়ের টিলা কেটে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় পাহাড়ি ঢল বা দুর্যোগে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। যেখানে প্রতি বর্ষায় সরকার পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী জনসাধারণকে সরিয়ে নিয়ে যায় এই অবস্থায় পাহাড়ের পাদদেশে এবং টিলা কেটে ঝুঁকিপূর্ণভাবে আশ্রয়ণ নির্মাণ করা হচ্ছে। যার জন্য সামান্য বৃষ্টিতে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগে ঘরগুলোর বিভিন্ন অংশ দেবে যাচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয়দের কর্মসংস্থান বঞ্চিত করে বাইরে থেকে শ্রমিক এনে কাজ করা হচ্ছে।

১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬খ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি বা আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করতে পারবে না। তবে শর্ত থাকে যে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে কোনো পাহাড় বা টিলা কর্তন বা মোচন করা যেতে পারে। ’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুজন কান্তি দাশ বলেন, ‘সরকারের পাহাড় সরকার কাটছে, এতে অসুবিধা কোথায়? সরকারি প্রকল্পে অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। ’

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিনা আকতারের সরকারি মুঠোফোন নম্বরে গতকাল সকাল থেকে একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি।



সাতদিনের সেরা