kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ

হাত-পা বেঁধে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন

♦ অভিযুক্ত শিক্ষক সাঈদী হাসান শিক্ষার্থীদের ফেল করানোর ভয় দেখান
♦ আহত শিক্ষার্থী সালমান হোসেনকে হাসপাতালে ভর্তি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতায় ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির রেডিওলজি বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক সাঈদী হাসানের কাছে কোচিং না করায় এক শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে ইনস্টিটিউটের ছাত্র হোস্টেলের ৪০৭ নম্বর কক্ষে তাঁকে নিয়ে এই নির্যাতন করা হয়। আহত শিক্ষার্থী সালমান হোসেন (২২) ওই ইনস্টিটিউটের ল্যাব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুবাড়িয়া গ্রামের মো. হানিফের ছেলে। আহত সালমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাশের দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রেডিওলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিপনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির রেডিওলজি বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক সাঈদী হাসান ভাইভায় ফেল করিয়ে দেওয়া, পরীক্ষার খাতায় লিখতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করেন। কিন্তু সালমান হোসেন তাঁর কাছে কোচিং না করায় গত শুক্রবার রাতে রেডিওলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান ও একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের রশিদ খান, ম্যাটসের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আবু বক্কর রানাসহ কয়েকজনকে দিয়ে তাঁকে রুম থেকে ডেকে নিয়ে উপর্যুপরি পেটানো হয়। এ সময় নাহিদ হাসান, রশিদ খানসহ আরো কয়েকজন সালমানের হাত-পা-মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি পিটিয়ে থেঁতলে দেয়।

গুরুতর আহত শিক্ষার্থী সালমান হোসেন জানান, শুক্রবারই তিনি হোস্টেলে আসেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁকে রুম থেকে ডেকে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়। এই ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ছাড়া তাঁকে দেখতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও গিয়েছিলেন।

দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রায়হান আবীর বলেন, ‘সালমানের মাথা, হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ৭২ ঘণ্টা পার না হলে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি নিয়ে কিছু বলা যাবে না। ’

এ ব্যাপারে গতকাল শনিবার দুপুরে অভিযুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক সাঈদী হাসানের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও ধরেননি তিনি।

এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির অধ্যক্ষ ফারুকুজ্জামান বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনাটি সত্য। এ জন্য দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

কালীগঞ্জ থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা রেকর্ড করে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, ‘সালমান হোসেনের ওপর নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য এরই মধ্যে কালীগঞ্জ থানার ওসিকে বলা হয়েছে। ’



সাতদিনের সেরা