kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

উলিপুরে পাট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রণোদনার তালিকায় মৃত ব্যক্তি, বরাদ্দ আত্মসাৎ

♦ বরাদ্দ সার ও বীজ দেওয়া হচ্ছে না কৃষকদের
♦ তথ্য দিতেও গড়িমসি পাট কর্মকর্তার
♦ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে -বিপুল কুমার, ইউএনও, উলিপুর

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুড়িগ্রামের উলিপুরে ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকায় মৃত ব্যক্তিদেরও নাম রাখা হয়েছে। পাট চাষিদের জন্য বরাদ্দকৃত বীজ ও সার কৃষকদের না দিয়ে লাগামহীন দুর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। উপজেলার উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দাস এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পে এই উপজেলার আট ইউনিয়নের তিন হাজার পাট চাষির মধ্যে এক কেজি পাটবীজ, ছয় কেজি ইউরিয়া, তিন কেজি টিএসপি ও তিন কেজি এমওপি সার বিতরণ করার কথা। কিন্তু নিয়মবহির্ভূতভাবে এসব উপকরণ বিতরণ না করে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে উপসহকারী পাট কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু প্রতিবেদককে তথ্য না দিয়ে নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন তিনি। পরে সুবিধাভোগী পাট চাষিদের তালিকা চেয়ে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর তথ্য অধিকার ফরমে আবেদন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাহিদামতো তথ্য দিতে গড়িমসি করেন তিনি। এরপর জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা বরাবর আপিল করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরে গত ১৯ ডিসেম্বর তথ্য কমিশনে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে তথ্য দিতে বাধ্য হন ওই কর্মকর্তা। প্রাপ্ত তালিকার সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালালে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।

তালিকার সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার ২৭৭৬ ক্রমিকে নরেশ চন্দ্র বর্মণের নাম। কিন্তু তিন বছর আগে তিনি মারা গেছেন। একই পাড়ার নিবারণ চন্দ্র, রতন কুমার, শচীন্দ্র নাথ, দেবেন্দ্র নাথসহ বেশ কিছু ভূমিহীনের তথ্য পাওয়া যায়। এই ভূমিহীনদের নাম উপকারভোগীর তালিকায় থাকলেও এসবের কিছুই জানেন না তাঁরা।

গুনাইগাছ ইউনিয়নের নন্দুনেফরা গ্রামের মতিয়ার রহমান (তালিকায় ক্রমিক নং-২৮৪১) বলেন, ‘প্রতিবছর শুধু দিতে চায়, কিন্তু একবারও পাইনি। ’ পশ্চিম কালুডাঙা গ্রামের হাবিবুর রহমান প্রতিবছর ১৫-২০ শতাংশ জমিতে পাট চাষ করলেও প্রণোদনা পান না। তালিকায় যে তাঁর নাম আছে, সেটাও জানেন না তিনি। একই গ্রামের মিলন মিয়া তিন-চার বছর ধরে পাট চাষ করলেও কখনো সার-বীজ পাননি।

তবকপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী, হিরোন্দ্রনাথ বর্মণ, আবেদ আলীসহ তালিকায় নাম থাকা একাধিক ব্যক্তি জানান, পাট চাষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সার-বীজ সহায়তা দিলেও এসব কিছুই পান না তাঁরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দাস প্রতিবছর একই তালিকা রদবদল করেন মাত্র। পাট চাষিদের জন্য বরাদ্দ বীজ-সার বিতরণ না করে কালোবাজারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দাস কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে প্রতিবেদনটি না প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

কুড়িগ্রাম পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল সরকার বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে এমন হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ’

‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল কুমার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। যেহেতু আপনি বললেন, আমি খোঁজ নেব। সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 



সাতদিনের সেরা