kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

নিহত কাউন্সিলর সোহেলের স্ত্রীকে সমর্থন দিয়েছে আ. লীগ

ভাবির বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত দেবর, দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন

আবদুর রহমান, কুমিল্লা   

৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাবির বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত দেবর, দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

সন্ত্রাসীদের গুলিতে সহযোগীসহ খুন হওয়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেলের ওয়ার্ডে নির্বাচন করবেন তাঁর স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রুনা। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমনও ওই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। রুমন সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহা হত্যা মামলার বাদী।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেবর-ভাবির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এলো। দুজনই সমান তালে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

কুসিক নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় সোহেল হত্যাকাণ্ডের পর ওই ওয়ার্ডে আর উপনির্বাচন দেওয়া হয়নি। কুসিক প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন সোহেল। তিনি কুসিকের প্যানেল মেয়রও ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আলোচনা চলছিল—ওই ওয়ার্ডে সোহেলের পরিবার থেকে কে হবেন কাউন্সিলর প্রার্থী। চলতি বছরের শুরুতেই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন রুমন। এরপর রুনাও নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমে পড়েন। তবে গত ২৫ এপ্রিল কুসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে দুজনই জোরেশোরে মাঠে রয়েছেন। ঈদ উপলক্ষে এলাকার বিভিন্ন দেয়ালে লাগানো হয় দুজনের পোস্টার। খুঁটিতে ঝুলছে ফেস্টুন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সরব হয়ে উঠেছেন দেবর-ভাবির কর্মী ও সমর্থকরা।   

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নির্ধারণে গত বৃহস্পতিবার নগরীর টাউন হলে এক সভা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। সভায় সবার মতামতের ভিত্তিতে বাহাউদ্দিন বাহার ওই ওয়ার্ডে প্রার্থী হিসেবে রুনার নাম ঘোষণা করেন।    

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোহেলের পরিবারের একাধিক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি জানান, ওই ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব সোহেলের পিএস ও বিশ্বস্ত লোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সোহেল জীবিত থাকতেই তাঁর ভাই রুমন ও হাবিব দুজনই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হিসেবে নেতৃত্বে আসতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে রুমন ও হাবিবের মধ্যে দ্বন্দ্বও ছিল। রুমন হাবিবকে অপছন্দ করলেও এখন ভোটের মাঠে প্রচারণায় হাবিবকে সঙ্গে রাখছেন রুনা। তা ছাড়া সোহেল খুন হওয়ার পর সম্পত্তি ও আর্থিক বিষয় নিয়েও দেবর-ভাবির মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সর্বশেষ দুজনেরই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার পর তাঁদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এলো। এবারের ঈদেও দেবর-ভাবি পৃথকভাবে নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে রুনা গতকাল শুক্রবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার স্বামী দল-মত-নির্বিশেষে সবার কাছে জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর রেখে যাওয়া কাজ সম্পন্ন করার জন্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’

দেবরের সঙ্গে দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিভাবক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার দলের নেতাকর্মীদের মতামত নিয়েই আমাকে দলের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছেন। আমি আগামী ১১ মে মনোনয়ন ফরম কিনব। আর তাঁর (দেবর) বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। তিনি কী করবেন, সেটা তাঁর ব্যাপার। ’

সৈয়দ মো. রুমন বলেন, ‘ভাইয়ের স্বপ্নগুলো পূরণ করার জন্য আমি আগেই নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছি। এখন শুনেছি ভাবিও নির্বাচন করবেন। তিনি হাবিবকে নিয়ে নির্বাচনী কাজ করছেন। তবে আমিও নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ। ’

প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ জুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) কুসিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৭ মে। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৯ মে এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৬ মে। আর প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে।



সাতদিনের সেরা