kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় উপাচার্য ড. এ কিউ এম মাহবুব শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফি কমানোর আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ তিন মাসেও ফি কমানোর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্যের আশ্বাস এবং বাস্তবতায় কোনো মিল নেই। বিশেষ করে সদ্য স্নাতক সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আগের নিয়ম অনুযায়ী ফি নেওয়া হচ্ছে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও।

বিজ্ঞাপন

স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থীর টাকা প্রদানের রশিদে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ফি ২০০ টাকা, বিএনসিসি ফি ৫০ টাকা, রোভার স্কাউট ফি ৫০ টাকা এবং সিলেবাস ফি ১৫০ টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ এর আগে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. মোরাদ হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞাপ্তিতে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ফি, রোভার স্কাউট ফি ও বিএনসিসি ফি ২০ টাকা করে এবং সিলেবাস ফি ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে নিজেদের জারি করা নোটিশই ভুলে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অতিরিক্ত ফি দিয়ে সার্টিফিকেট উত্তোলন করা অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সার্টিফিকেটের জন্য আমি প্রথমে ডিপার্টমেন্টে আবেদন করি। পরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছেও আবেদন করি। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন যেহেতু নতুন ফি নির্ধারণ করা হয়নি, তাই আগেরটাই কার্যকর রয়েছে। মোটামুটি বাধ্য হয়ে পূর্বনির্ধারিত অতিরিক্ত ফি দিতে হয়েছে। ’ হলের ফি-সংক্রান্ত ভোগান্তির বিষয়ে কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাসুকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের হলগুলোতে সংস্থাপন চার্জ অর্থাৎ পানি ও বিদ্যুৎ বিলের চার্জ যুক্ত হয়ে মোট ৩৫০ টাকা মাসিক বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কথা দিয়েছিল ফি কমানো হবে; কিন্তু সেটা হয়নি। ’

ফি না কমানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মোরাদ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না, কারণ এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন উপাচার্য স্যার। ’

এ ব্যাপারে উপাচার্য ড. এ কিউ এম মাহবুব বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে ফি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ হয়নি। তাই আগের ফি গ্রহণ করা হচ্ছে। পরে ফি কমানো হলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ’ ফি কমিয়ে নোটিশ দেওয়ার পরও স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি গ্রহণের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমরা যে নোটিশটি দিয়েছিলাম সেটি রানিং শিক্ষার্থীদের জন্য, প্রথম বর্ষে যারা ভর্তি হবে তাদের জন্য নয়। ’



সাতদিনের সেরা