kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

ঘুষ ছাড়া সেবা মেলে না

ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া ওষুধ, চিকিৎসাসহ কোনো সেবাই পাওয়া যায় না। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় অনেক খামারি অফিস কর্মচারীদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে উপজেলার বেতুয়ান গ্রামের মনিরুজ্জামান নামে এক খামারি জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি চিকিৎসা না পেয়ে মনিরুজ্জামানের একটি গাভি ও একটি ছাগল মারা গেছে।

বিজ্ঞাপন

লিখিত অভিযোগ ও খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ছোট-বড় প্রায় তিন হাজার গবাদি পশুর খামার রয়েছে। পশুর সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। এসব খামার থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক লিটার দুধ দেশের বিভিন্ন কম্পানিতে সরবরাহ করা হয়। খামারিরা ওষুধ এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ছুটে যান সরকারি ওই পশু হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালের কর্মচারীদের টাকা না দিলে বিনা মূল্যের ওষুধ দেওয়া হয় না। এমনকি পশুর চিকিৎসা দিতেও টালবাহানা করেন হাসপাতালের কর্মচারীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছর উপজেলার প্রায় দুই হাজার ৫০০ খামারিকে করোনাকালীন প্রণোদনা দেওয়া হয়। প্রণোদনা তালিকা তৈরির কাজে ওই কার্যালয়ের কর্মচারীরা টাকা নিয়ে পশু না থাকা সত্ত্বেও অনেককে তালিকাভুক্ত করেন। এতে বাদ পড়ে বড় বড় খামারির নাম। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায়ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা অভিযোগ তোলেন। ওই সময়ে সুবিধাবঞ্চিত খামারিরা কার্যালয়ে গেলে অভিযোগ কৌশলে ধামাচাপা দেন প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

পাথরঘাটা গ্রামের খামারি নায়েব আলী বলেন, ‘টাকা খরচ করে পল্লী চিকিৎসক দিয়ে পশুর চিকিৎসা করাই। কিন্তু দরিদ্র খামারিদের সেটা সম্ভব হয় না। গ্রামের মধ্যে বড় খামার আমার। অথচ প্রণোদনার দুইবারের তালিকায় আমার নাম বাদ পড়ে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে আমি প্রণোদনা পাই। ’

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কথা বলতে প্রাণিসম্পদ অফিসে গেলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি চিকিৎসক কাউকে পাওয়া যায়নি।

তবে খামারিদের লিখিত অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এই অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। ’



সাতদিনের সেরা