kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

গ্রাহকপ্রতি গুনতে হচ্ছে তিন গুণ টাকা

মিরসরাইয়ের দুর্গম এলাকায় বিদ্যুত্সংযোগ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রাহকপ্রতি গুনতে হচ্ছে তিন গুণ টাকা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিদ্যুত্সংযোগের নামে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। ৮৬৫ টাকার বদলে প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে দুই হাজার ৪০০ থেকে তিন হাজার টাকা। ফলে ওই এলাকার প্রায় ৯০০ গ্রাহককে বাড়তি দিতে হবে ১৫ লাখ টাকারও বেশি। এ ঘটনায় ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা কয়লা গ্রামের বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়ি দুর্গম জনপদে বসবাস করে প্রায় ৯০০ পরিবার। এখানে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো।

অবশেষে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর অধীনে প্রথম ধাপে এখানকার ৯০ পরিবারে বিদ্যুত্সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অথচ এ প্রক্রিয়ার শুরুতেই এসব পরিবার থেকে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) নূর মোহাম্মদ আজম মজুমদার জানান, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কয়লা গ্রামের মানুষের জন্য বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটি সংযোগে প্রতি কিলোওয়াট ফি ৪০০ টাকা। কিলোওয়াট বাড়লে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা বাড়বে। এ ছাড়া আবেদন ফি ১১৫ টাকা এবং সদস্য ফি বাবদ নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। এর বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

অথচ অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলাম বিদ্যুত্সংযোগের নামে কয়লা গ্রামের পরিবারগুলো থেকে দুই হাজার ৪০০ থেকে তিন হাজার টাকা আদায় করছে। এ ছাড়া এলাকার লোকজন চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর সভাপতি জাবেদ ইকবালকে এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ দিলে উল্টো তিনি এলাকার লোকজনকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গত ২৩ জানুয়ারি কয়লা গ্রামবাসীর পক্ষে মো. হানিফ ও মোহাম্মদ আলমগীর নামের দুই ভুক্তভোগী মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করলেও ধরেননি তিনি।

তবে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর সভাপতি জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘তিন হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। অফিস খরচ বাবদ নেওয়া হচ্ছে ৯৬৫ টাকা। এ ছাড়া রড, কাটাউট বাবদ বাকি ৫৩৫ টাকাসহ মোট এক হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। ’ গ্রাহকদের হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গে জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘কেউ আমাকে বিষয়টি জানায়নি। হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এ ধরনের প্রমাণ কেউ দিতে পারলে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেব। ’

ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুলকে দিয়ে ঘরের ওয়্যারিং করাতে হবে, তা না হলে বিদ্যুত্সংযোগ পাবে না—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই এলাকায় তিনজন ইলেকট্রিশিয়ান আছেন। আমরা তাঁদের তিনটি এলাকা ভাগ করে দিয়েছি। ’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর ডিজিএম নূর মোহাম্মদ আজম মজুমদার বলেন, ‘ওয়্যারিংয়ের বিষয়টি গ্রাহকদের একান্ত ব্যাপার। তাঁরা বিদ্যুৎ বিভাগের যেকোনো ইলেকট্রিশিয়ানকে দিয়ে ওয়্যারিং করাতে পারবেন। ’

অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘এসংক্রান্ত একটি অভিযোগ আমি পেয়েছি। আগামী সোমবার উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় এই বিষয়টিও আলোচ্যসূচির মধ্যে রাখা হয়েছে। সেখানে জনপ্রতিনিধি ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’



সাতদিনের সেরা