kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

আ. লীগে কোন্দল বিএনপিতে ভাঙন

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আ. লীগে কোন্দল বিএনপিতে ভাঙন

পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, তা কোন্দলে রূপ নিয়েছে। আর কেন্দ্র থেকে একের পর এক কমিটি ভেঙে দেওয়ায় বিএনপি নেতারা রহস্যজনক অবস্থান নিয়েছেন। এই হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পরিস্থিতি।

আওয়ামী লীগ

কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের গত ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় একটি বৈঠক হয়।

বিজ্ঞাপন

এই বৈঠকে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থীদের মূল্যায়ন হয়নি। উপজেলা, পৌরসভা নির্বাচনে যোগ্য হয়েও রাজনীতির মারপ্যাঁচে কেউ জনপ্রতিনিধি হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কেউ সাংগঠনিক কাজে ডাক পান না। ব্যক্তিবিরোধে দলের বিরোধ জিইয়ে রাখা হয়েছে। পরে পদ না পাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার সঙ্গে জেলা কমিটির সমন্ব্বয় নেই।

সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের পাশাপাশি জেলার পাঁচটি আসনের সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাঁরা দলীয় বিভিন্ন দিক দিয়ে খুব বেশি কথা না বললেও জেলার সঙ্গে উপজেলার সমন্ব্বয় নেই বলে উল্লেখ করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার বলেন, ‘তৃণমূল থেকে জেলা পর্যন্ত দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলন করতে আলোচনা হয়েছে। ’

যদিও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী সম্প্রতি বিভিন্ন সভায় বলছেন, বিদ্রোহীদের পক্ষে থাকাদের আগামী দিনে দলের পদ দেওয়া হবে না।

ওই সভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবউল আলম হানিফ সভাপতিত্ব করেন। মেয়র পদে দলের মনোনয়ন না পাওয়া ও দলের কর্মকাণ্ডে ডাক না পাওয়ার অভিযোগ আনেন সাবেক মেয়র মো. হেলাল উদ্দিন। পদে না রাখার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হলে এর কঠিন জবাব দেওয়া হবে বলে জানান এক নেতা।

বিএনপি

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গত ১৭ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর বিএনপি, সদর উপজেলা ও বিজয়নগর উপজেলা কমিটি স্থগিত করা হয়। ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি স্থগিত করার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

দলের চেয়ারপারসনের মুক্তি নিয়ে ডাকা বিএনপির সমাবেশ জেলাজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ৮ জানুয়ারি একই স্থানে, একই সময়ে ছাত্রলীগ সমাবেশ ডাকলে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের বটতলীতে সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশের আগের দিন চার নেতাকে আটক করলেও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর সাত্তার ভূঁইয়া তাঁর এলাকার কমিটি ভেঙে দিতে ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর চিঠি দিয়েছেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপির গঠন করা ওই দুই উপজেলা কমিটি শুরু থেকে বিতর্কের সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারির প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, স্থগিতাদেশ উপজেলা ও পৌরসভার অধীন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

স্থগিতের কারণ জানেন না জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুুর রহমান।



সাতদিনের সেরা