kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

চার একর জমির মালিকের বাড়িতে গৃহহীনের ঘর

নেত্রকোনা সংবাদদাতা   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চার একর জমির মালিকের বাড়িতে গৃহহীনের ঘর

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ঘর উঠেছে সচ্ছল ব্যক্তির বাড়িতে। উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াগাঁও গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া এই ঘরের সুবিধাভোগী। প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে তিনি এই সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছর মোহনগঞ্জ উপজেলায় ৩৬ জন গৃহহীনের নামে দুর্যোগসহনীয় ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

তালিকার ১১ নম্বরে সোহেল মিয়ার নাম রয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয় দুই লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, আগে থেকেই সোহেল মিয়ার বাড়িতে আধাপাকা ঘর ছিল। এ ছাড়া তাঁর চার একরেরও বেশি জমি রয়েছে। ফলে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী তিনি গৃহহীনদের ঘর পেতে পারেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নওয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া বলেন, চার একরেরও বেশি জমি আছে সোহেলের। কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে গৃহহীনদের ঘর নিজের নামে নিয়েছেন তিনি। আগে থেকেই তাঁর একটি আধাপাকা ঘর ছিল। প্রকল্পের ওই ঘরের ইট, সিমেন্টসহ অন্যান্য উপকরণ তাঁর আগের ঘরের সঙ্গে মিলিয়ে ভিন্ন নকশার একটি ঘর তৈরি করেছেন তিনি।

তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, ‘আমি শুনেছি যে সোহেল মিয়া একটি ঘর পেয়েছে। তাঁর চার একরের মতো জমিজমাও আছে। তবে তিনি কিভাবে গৃহহীনদের ঘর পেলেন—তা আমি বুঝে উঠতে পারছি না। ’

সুবিধাভোগী সোহলে মিয়া বলেন, ‘আমি ঘর বরাদ্দ পেয়েছি কয়েক বছর আগে। বিষয়টি এলাকার সবাই জানেন। এ ক্ষেত্রে আমি কোনো অনিয়ম করিনি। ’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আমি এখানে আসার আগে সুবিধাভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত হয়। তালিকায় সোহেল মিয়ার নামও ছিল। ফলে আমার কিছু করার ছিল না। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  সাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি বলেন, ‘আমি ওই প্রকল্প বাস্তায়নের পরে এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’



সাতদিনের সেরা