kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

৪১% বাঁধের কাজ শুরুই হয়নি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৪১% বাঁধের কাজ শুরুই হয়নি

সুনামগঞ্জের হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ৭১৬টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ৪২০টির কাজ শুরু হয়েছে। ২৯৬ প্রকল্পের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। অর্থাৎ হাওরে ৪১.৩৪ শতাংশ বাঁধের কাজ এখনো বাকি রয়েছে। অথচ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শতভাগ কাজ শেষ করার কথা।

বিজ্ঞাপন

তবে এই সময়ে সব হাওরের শতভাগ বোরো জমি আবাদ করেছেন কৃষকরা। এখনো প্রায় অর্ধেক বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

সুনামগঞ্জের শতাধিক হাওরে প্রায় আড়াই লাখেরও বেশি কৃষক পরিবার বোরো চাষে জড়িত। হাওরের একমাত্র ফসলই তাঁদের জীবিকার প্রধান মাধ্যম। এ বছর জেলায় দুই লাখ ২২ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাওরে ৫২০ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারে প্রাথমিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৩ কোটি টাকা। গত ১৫ ডিসেম্বর স্থানীয় সুবিধাভোগী কৃষকদের দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে কাজ শুরুর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৪২০টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আর ২৯৬টি প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি। এবারও যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন করা যাবে না বলে মনে করছেন কৃষকরা।

এদিকে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় প্রকল্প গ্রহণ করায় জেলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। শাল্লা উপজেলায় বাঁধের প্রকল্প গ্রহণে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় বাহারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম। এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিটি উপজেলায়ই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মিলে প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদন দিয়ে সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জনপ্রতিনিধিরা। এ কারণে বাঁধের কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা বাঁধ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম বলেন, ‘বিলম্বে পানি কমায় এবং মাটি ভেজা থাকায় বাঁধের কাজে বিলম্ব হচ্ছে। তা ছাড়া এক্সকাভেটর না পাওয়া এবং স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের কারণেও বাঁধের কাজে বিলম্ব হচ্ছে। আমরা আশা করছি, চলতি মাসে ৭১৬ প্রকল্পের সব কটিরই কাজ শুরু করতে পারব। ’

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ সোম বলেন, ‘হাওরের শতভাগ বোরো জমি আবাদ সম্পন্ন করেছেন কৃষক। এখন বাঁধগুলোর কাজ শেষ হলে তা টেকসই হবে। ’ 



সাতদিনের সেরা