kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

তীরেই ফেলা হচ্ছে মাটি

বরগুনা প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তীরেই ফেলা হচ্ছে মাটি

ভেকু মেশিন দিয়ে খাকদোন নদের খননকাজ চলছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বরগুনার খাকদোন নদের নাব্য সংকট দূর করতে খনন শুরু করছে বিআইডাব্লিউটিএ। খনন করা মাটি নদের তীরেই ফেলা হচ্ছে। ফলে খননের মাটি জোয়ারের পানিতে ধুয়ে আবার নদ ভরাট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  

স্থানীয়রা জানায়, বরগুনা শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া খাকদোন নদটির দুই তীর বছরের পর বছর ধরে দখলের কারণে সরু হয়ে আসছে।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি নাব্যতা সংকটের কারণে নৌযান চলাচলেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এখন ভেকু মেশিন দিয়ে নামমাত্র খনন করে মাটি নদের তীরেই ফেলা হচ্ছে। এতে নদটি আবার ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদটি বিপন্ন হলে বরগুনার পরিবেশ ও ব্যবসা-বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়বে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন অধিদপ্তর (বিআইডাব্লিউটিএ) বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর থেকে খাকদোনের নাব্য নিরসনে নদের ডুবোচর অপসারণে খননকাজ চলছে। নদের যেসব এলাকায় ডুবোচর রয়েছে, সেখানেই শুধু খনন করা হচ্ছে। বরগুনা-ঢাকা নৌপথে ছয়টি লঞ্চ চলাচল করে। প্রতিদিন চারটি লঞ্চ ঢাকা-বরগুনায় আসা-যাওয়া করে। এসব লঞ্চ বিভিন্ন সময় খাকদোন নদে আটকে থাকে।

বরগুনা নদীবন্দর কার্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা নদীবন্দর সচল রাখতে প্রায় প্রতিবছর সরকার লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে খাকদোন নদটি খনন করছে। কিন্তু অব্যাহত দখলের কারণে এই অংশের নাব্য ধরে রাখা যাচ্ছে না। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ ছাড়া খনন করা হলে নাব্য সংকটের পাশাপাশি নদের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদের উত্তর পারের অংশে জেগে ওঠা ডুবোচর ভেকু দিয়ে কেটে অপসারণ করা হচ্ছে। এসব মাটি নদের তীরেই ফেলা হচ্ছে।  

স্থানীয় বাসিন্দা কবীর হোসেন বলেন, ‘নদটি দিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যায়। তাই ডুবোচর অপসারণ করা হচ্ছে। কিন্তু ডুবোচরের মাটি কেটে নদের তীরেই ফেলা হচ্ছে। এতে বর্ষাকালে আবার নদটি ভরাট হয়ে যাবে। ’

বরগুনা শহরের ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বলেন, ‘নদটি যদি সঠিকভাবে খনন করা না হয় তাহলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। ’

জেলা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক হাসানুর রহমান বলেন, ‘ভেকু দিয়ে এভাবে নদ খননের কারণে নদটির প্রশস্ত আরো কমে যাবে। এমনিতেই অব্যাহত দখলের কারণে খাকদোন এখন নিষ্প্রাণ। নদের প্রশস্ততা কমে গেলে বরগুনায় বিলাসবহুল কোনো লঞ্চ চলাচল করবে না। এতে বিপাকে পড়বে এলাকার মানুষ। ’

বিআইডাব্লিউটিএ বরিশাল কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মিরাজুল রহমান সোহেল বলেন, ‘শিগগিরই আমাদের বড় ড্রেজার আসবে। বরগুনা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে হলে পায়রা নদীর সঙ্গে খাকদোন নদের যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন বলে মনে করি। ’

জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘খনন করা মাটি ফেলার জায়গা না পাওয়ায় তীরে ফেলা হচ্ছে। আর দ্রুত সময়ের মধ্যে খাকদোন নদের দুই পারের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। ’



সাতদিনের সেরা