kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

অর্ধেক চেয়ারম্যানের, ২০% পিআইওর

বরগুনা সংবাদদাতা   

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্ধেক চেয়ারম্যানের, ২০% পিআইওর

‘অর্ধেক টাকা দিতে হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যানকে এবং ২০ শতাংশ দিতে হয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও)। বাকি যে টাকা থাকে তা দিয়ে আমি কী কাজ করব?’ এসব কথা বলেন বরগুনা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের দুটি প্রকল্পের সভাপতি (সিপিসি) ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য কবির চৌধুরী।

এই ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে (কাবিটা/টিআর) ১৪টি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে সভাপতি ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও স্থানীয় ব্যক্তিরা।

বিজ্ঞাপন

এখানে কাজ না করিয়ে ৩২ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বুড়িরচর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান হুমায়ন কবীর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় প্রকল্প তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলোতে গত অর্থবছরে কাজ শেষ হয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়। তবে এসব প্রকল্পে বরাদ্দের অনুকূলে কাজ না করিয়ে বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। ’

বুড়িরচর ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাঈনুদ্দীন ময়না বলেন, ‘আমার দুটি প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে অর্ধেক টাকা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানকে দিতে হয়েছে। আমরা অসহায় ছিলাম। বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়েছে। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িরচর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্যের ভায়রা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমাকে টাকার দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সিপিসি ও পিআইও এ বিষয়ে ভালো জানবেন। পিআইও কাজ না দেখে কেন বিল দিয়েছেন?’

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক পিআইও জি এম ওয়ালিউল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে এসব প্রকল্পে কোনো কাজ না করিয়ে বিল তুলে নিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। ওয়ালিউলকে বারবার কলা হলেও তিনি ধরেননি।

সম্প্রতি বুড়িরচর ইউনিয়নের কাবিটা ও টিআর প্রকল্পগুলো ঘুরে দেখা যায়, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি প্রকল্প চড়কগাছিয়ার ওয়ারেচ খন্দকার বাড়ি থেকে জয়নাল মুন্সি বাড়ি পর্যন্ত, চড়কগাছিয়া আনছার ফরাজি বাড়ির কালভার্ট থেকে পূর্বদিকে চান মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি প্রকল্প পশ্চিম বুড়িরচর কালভার্ট থেকে ফারুক খলিফার বাড়ি পর্যন্ত, কামড়াবাদ তাহের মুসল্লির বাড়ি থেকে রুস্তম ঘরামীর বাড়ি পর্যন্ত, পশ্চিম বুড়িরচর নয়াকাটা দুলালের বাড়ি থেকে আবু বক্করের বাড়ি পর্যন্ত, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকগাছিয়া ফটিক গাজীর বাড়ি থেকে দক্ষিণ দিকে চান্দু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাখালী সালাম মিয়ার বাড়ি থেকে পূর্বদিকে রুস্তম মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত এবং রুস্তম মিয়ার বাড়ি থেকে পূর্বদিকে চুন্নু ভাণ্ডারীর বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা সংস্কার প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে এসব রাস্তায় কোনো কাজ দেখা যায়নি। স্থানীয়রা জানায়, গত ১০ বছরে কোনো কাজ হয়নি।

 

৫ নম্বর ওয়ার্ডের কামড়াবাদ তাহের মুসল্লির বাড়ি থেকে রুস্তম ঘরামীর বাড়ি পর্যন্ত সিপিসি করা হয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানকে। তিনি দাবি করেন, তিনি কাজ করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। ’



সাতদিনের সেরা