kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

ভোটের মামলায় বিপাকে দরিদ্ররা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোটের মামলায় বিপাকে দরিদ্ররা

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ও যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদ নিয়ে আইনি লড়াই চলমান থাকায় গেজেট প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। ফলে এই দুই ইউপির অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এতে এক হাজার দিনমজুর কাজ করতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে দিন যাপন করছে।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের দোওয়ালিপাড়া গ্রামের দিনমজুর ফুলবর মিয়া বলেন, ‘এলা কোন কাজ কাম নাই।

বিজ্ঞাপন

চাউলের দাম বেশি। ৪০ দিনের কামও বন্ধ। এলা হামরা কী খাই? জীবন বাঁচাই কেমন করি?’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে কাঁঠালবাড়ী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদ নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় শুধু সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যাত্রাপুর ইউপিতে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচন হলেও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। সদর উপজেলার বাকি ছয়টি ইউপিতে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নামে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে এবং তাঁরা শপথ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু কাঁঠালবাড়ী ও যাত্রাপুরের গেজেট স্থগিত আছে। তাই শপথ নিতে পারছেন না নির্বাচিতরা।

সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্র জানায়, আটটি ইউনিয়নে তিন হাজার ৫০০ উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। তাঁদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে পাঁচ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে কাঁঠালবাড়ীর ৪৫৬ জন ও যাত্রাপুরের ৬০০ উপকারভোগী বাদে অন্যরা কাজ করে দৈনিক ৪০০ টাকা হাজিরা পাচ্ছেন। আইনি জটিলতায় কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন এই দুটি ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার উপকারভোগী। শুধু তা-ই নয়, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ করতে না পারলে তাঁদের নামে বরাদ্দ এক কোটি ৬৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পিআইও খন্দকার মিজানুর রহমান জানান, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্প অনুমোদন করা যাচ্ছে না।

যাত্রাপুর ইউপির নবনির্বাচিত সদস্য রহিমুদ্দির রিপন বলেন, ‘নির্বাচন হওয়ার প্রায় দুই মাস পরও গেজেট না হওয়ায় ইউপির সেবা থেকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। ’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাওলাদার মো. কামরুল ইসলাম জানান, নির্বাচিত সদস্যদের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেদুল হাসান জানান, সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখা হচ্ছে। নির্দেশনার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা