kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

ফুটপাতে আ. লীগ নেতার ৪ দোকান

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুটপাতে আ. লীগ নেতার ৪ দোকান

মাদারীপুর সরকারি কলেজ সড়কের ফুটপাতের একটি অংশে চারটি দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

মাদারীপুর সরকারি কলেজ সড়কের ফুটপাতের একটি অংশে চারটি দোকান তুলেছেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক বাবু শরীফ। এ কারণে বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সরকারি কলেজের উত্তর পাশের পেছন দিকের সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করে। এ জন্য সড়কটির দুই পাশে ফুটপাত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কলেজের পেছনের গেটের সামনে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে টিনশেড চারটি দোকানঘর তুলেছেন বাবু শরীফ। ঘর তোলার পরপরই দোকানপ্রতি ২০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে মাসিক দুই হাজার টাকার চুক্তিতে ভাড়া দিয়েছেন।

স্টার কফি বার নামের একটি দোকান মালিক রিফাত আহমেদ (২৬) বলেন, ‘ফুটপাত আমি দখল করিনি। ভাড়া নেওয়ার আগে ২০ হাজার টাকা অ্যাডভান্স আর মাসিক দুই হাজার টাকা চুক্তিতে বাবু শরীফের কাছ থেকে দোকানটি নিয়েছি। এর বেশি কিছু তো আমি জানি না। ’

ফুটপাতে দোকানঘর তোলার বিষয় স্বীকার করে জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক বাবু শরীফ বলেন, ‘কলেজ রোডে আরো আগে থেকেই আমার দোকান ছিল। নতুন রাস্তা করার সময় দোকানঘর ভাঙা পড়ে। ফুটপাতের পাশে আমার জমি রাখা আছে। নতুন করে টিনশেড দোকান করার সময় দেড় ফুটের মতো ফুটপাতে ঢুকে পড়েছে। এ বিষয়টি আমি মেয়র ও কাউন্সিলরকে জানিয়ে করেছি। কাঁচা দোকানঘর, পৌরসভা বললে ভেঙে ফেলব। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, ‘পৌরসভার সড়কের ফুটপাত দখল করে নতুন কয়েকটি দোকান তোলার বিষয়ে শুনেছি। তবে পৌরসভার বাসিন্দারা চাইলে, যেই হোক, ফুটপাত দখল করে দোকানঘর রাখতে পারবে না। বিষয়টি আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখব। ’

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘ফুটপাত দখল করে সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। কলেজ রোডে যে ফুটপাত দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেছে, সেটি ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে অভিযান চালিয়ে ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। ’

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের পেছনের ফটকের সামনে ফুটপাত দখল করে আছে সদ্যোনির্মিত চারটি টিনশেড দোকানঘর। একটি দোকানে চা-কফি বিক্রি হচ্ছে। অন্য দুটি দোকান ফটোকপি ও স্টেশনারির। একটি বন্ধ রয়েছে।   এই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী কলেজছাত্র রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘কলেজ রোডে আরো দোকান আছে। কিন্তু একটিও তো ফুটপাত দখল করে নাই। দুই দিন ধরে দেখছি, ফুটপাতের ওপরে চারটি দোকান। ’



সাতদিনের সেরা