kalerkantho

বুধবার ।  ২৫ মে ২০২২ । ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩  

বাজারে প্রকাশ্যে জাটকা

ভোলা প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজারে প্রকাশ্যে জাটকা

ভোলা সদর উপজেলার কাঠিরমাথা মাছঘাটে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে জাটকা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে গত ১ নভেম্বর থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই সময়ে ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটারের নিচে ইলিশ শিকার করা বেআইনি। কিন্তু এই আইন উপেক্ষা করে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকা নিধনের মহোৎসব চলছে। নদীতে কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল দিয়ে জাটকা ধরা হচ্ছে হরহামেশাই।

বিজ্ঞাপন

সেই জাটকা ঘাটে এনে নিলামে বিক্রি করছেন জেলেরা। বেপারীরা আবার সেগুলো ছোট-বড় বাজারগুলোতে বিক্রি করছেন প্রকাশ্যেই। এসব কিছু দেখেও প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ নীরব ভূমিকা পালন করছে। এতে সরকারের ইলিশের উৎপাদনের উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।

ভোলার বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি ঘাটেই ইলিশ ও অন্যান্য মাছের মতো জাটকাও ডাকে তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। সাইজ অনুযায়ী প্রতি হালি জাটকা ৭০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন জেলেরা। ভোলার ইলিশা, কাঠিরমাথা, তুলাতুলিসহ কয়েকটি ঘাটের জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মা ইলিশ রক্ষা অভিযান প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে রকম কঠোরভাবে পালন করা হয়, জাটকা অভিযানে সে রকম কঠোরতা নেই। তাই জেলেরা নির্বিঘ্নে জাটকা নিধন করছেন। জাটকা ধরা নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের ঢিলেঢালাভাবের কারণেই যে যাঁর মতো জাটকা ধরছেন এবং বিক্রি করছেন।

জেলেরা আরো জানান, জাটকা অভিযানের আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও মৎস্য অফিস বা প্রশাসনের কোনো লোককে তাঁরা নদীতে বা ঘাটে অভিযান চালাতে দেখেননি।

ভোলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ে মাছ বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ী মো. মনির জানান, ঘাট থেকে ছোট সাইজের জাটকা ৭০-৮০ টাকা ও মিডিয়াম সাইজের জাটকা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা করে কিনেছেন। বাজারে বিক্রি করতে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয় কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘বাজারে জাটকা বিক্রিতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। শুধু বাজারের মহলদার মাঝেমধ্যে নিষেধ করেন। তার পরও নদী থেকে জেলেরা ধরেন বিধায় কিনি। ’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোলার চরফ্যাশনের কয়েকজন আড়তদার জানান, জাটকা ধরায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মৎস্য বিভাগ জাটকা সংরক্ষণে নদীতে অভিযান দেয় না। তাই জেলেরা নদী থেকে জাটকা ধরে আড়তে নিয়ে আসেন। পরে আড়তদাররা সেগুলো কিনতে বাধ্য হন। তবে সেই জাটকা বিক্রি করতে মোকামে পাঠানোর সময় কোস্ট গার্ডের ঝামেলায় পড়তে হয় তাঁদের।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জাটকা সংরক্ষণে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে কয়েকটি জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ জাটকা জব্দ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নদী থেকে অবৈধ জাল অপসারণের জন্য বিশেষ কম্বিং অপারেশনও চলছে। ’



সাতদিনের সেরা