kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

বিরোধ নিরসনে নেতারা ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অধীন ১২৯টি ইউনিটের মধ্যে শতাধিক ইউনিট সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূলের এসব কমিটি গঠনের কার্যক্রম শেষ দিকে আসতেই আসন্ন ওয়ার্ড সম্মেলন ঘিরে নগর আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে হঠাৎ বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে একটি পক্ষ কেন্দ্রে অভিযোগ করেছেন। হঠাৎ নেতাদের মধ্যে বিভক্তি নিরসন এবং আসন্ন ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলন কবে হবে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঢাকায় আজ রবিবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের ডজনখানেক নেতা।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার ধানমণ্ডিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আজ সকাল ১০টায় এই বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পার্লামেন্ট ক্লাবে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল শনিবার বিকেলে বৈঠকের স্থান পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আজকের বৈঠকে মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে থাকা চট্টগ্রামের নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে নগর নেতাদের মধ্যে সাম্প্রতিক বিরোধ মিটে যেতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূলের ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলনের পাশাপাশি নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়েও আলোচনা হবে। এ ছাড়া আরো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাও আসতে পারে বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংগঠনকে গতিশীল, ঐক্যবদ্ধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘদিন পর আমরা তৃণমূলের সম্মেলন (ইউনিট কমিটি) শুরু করে এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। কেন্দ্রীয় নির্দেশে আমরা এই ইউনিট সম্মেলন শেষ করার পর ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলন করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমি আগেও কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করেছিলাম ইউনিট সম্মেলন কেন্দ্রীয় নেতাদের (অন্তত একজন) উপস্থিতিতে করার জন্য। কিন্তু ১২৯টি ইউনিট হওয়ায় নেতারা আমাদের জানিয়েছিলেন ইউনিট সম্মেলন স্থানীয়ভাবে করার জন্য। আমাদের পক্ষ থেকে (নগর আওয়ামী লীগ) সভায় আহবান জানানো হবে ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলনগুলোতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত থাকার জন্য। ’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বলেন, ‘বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয়াদির পাশাপাশি তৃণমূলের সম্মেলন নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরের সংসদ সদস্য (দলীয়) উপস্থিত থাকতে পারেন। ’

একই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) ঢাকায় বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। ইউনিট কমিটির সম্মেলন অব্যাহত আছে। গত বছরের ১৬ নভেম্বর থেকে এই সম্মেলন শুরু হয়ে এরই মধ্যে আমরা ১০০টির বেশি ইউনিট সম্মেলন করেছি। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে অবশিষ্ট ইউনিট সম্মেলন দ্রুত সম্পন্ন করতে। ’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান দুটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে একটি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং অন্যটি সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের পক্ষ। এ ছাড়া আরো একাধিক উপপক্ষও রয়েছে।



সাতদিনের সেরা