kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দক্ষিণের লঞ্চে নিরাপত্তা আগের মতোই

ভাটা এলেই ডুবোচরে আটকা

ভোলা প্রতিনিধি   

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাটা এলেই ডুবোচরে আটকা

ভোলার পূর্ব মেঘনা নদীর একটি চরে আটকে আছে নৌযান। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভোলার পূর্ব মেঘনা নদীতে জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। এতে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে ভাটার সময় ডুবোচরগুলো জেগে উঠছে। এ সময় ক্ষণে ক্ষণে আটকে যাচ্ছে চলাচলকারী লঞ্চ-ট্রলার। চরগুলোতে একবার লঞ্চ ও ট্রলার আটকে পড়লে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঝনদীতেই কাটাতে হয় যাত্রীদের।

মেঘনা নদী দিয়ে প্রতিদিন ভোলার মনপুরা, চরফ্যাশন, লালমোহন, তজুমদ্দিন ও নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে ৮-১০টি ঢাকাগামী লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু ডুবোচরের কারণে ঢাকায় আসা-যাওয়ায় প্রায় তিন-চার ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। এ ছাড়া ভোলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মেঘনা নদীর মাঝে অবস্থিত চরমদনপুর ও মাঝের চরে প্রায় ২০ হাজার লোকের বসবাস। তারা মেঘনা নদী পাড়ি দিয়েই প্রতিদিন জরুরি প্রয়োজনে ট্রলারে করে ভোলায় আসা-যাওয়া করছে। মেঘনার মাঝে উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বিভাবে চর পড়ার কারণে তাদেরও যাতায়াতে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। প্রায়ই ডুবোচরে ট্রলার আটকে যাচ্ছে। পরে মাঝনদীতে নেমে কাদাপানি ডিঙিয়ে পুনরায় অন্য ট্রলারে করে পারাপার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। ছয় মাস ধরেই চলছে এই দুর্ভোগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোলার সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়ন থেকে দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে যেতে দুটি নৌপথ রয়েছে। একটি সদরের নাছিরমাঝি এলাকা থেকে দৌলতখানের চেয়ারম্যানবাজার, অন্যটি সদরের তুলাতুলি থেকে দৌলতখানের করাতির খাল নৌপথ। প্রতিদিন দুটি নৌপথে সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু মেঘনা নদীর মধ্যে লম্বালম্বিভাবে কয়েকটি ডুবোচর জেগে ওঠায় এ দুটি ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী ট্রলারকে অনেক দূর ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। জোয়ারের সময় অনেক পথ ঘুরে গেলেও ভাটার সময় মাঝনদীতেই আটকে থাকছে ট্রলারগুলো।

ঘাটের ইজারাদার সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসকের স্থানীয় সরকার শাখা ও ইউনিয়ন পরিষদ বছরে প্রায় ২০ লাখ টাকায় এই দুটি ঘাট ইজারা দিচ্ছে। কিন্তু ডুবোচর অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেই তাদের।

ভোলায় কর্মরত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) খনন শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কামাল বলেন, ‘একটি ড্রেজার (খননযন্ত্র) এখন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ঘোষের হাটের তেঁতুলিয়া নদীতে খনন করছে। অনুমতি এলে এখানকার কাজ শেষ করে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীর ডুবোচর খননের কাজ করা সম্ভব।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ভোলা নদীবন্দরের উপপরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি খনন বিভাগের মুখ্য প্রকৌশলীকে সমস্যাটি সমাধানের জন্য বলবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভোলার জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী বলেন, ‘চরের বাসিন্দাদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’



সাতদিনের সেরা