kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দক্ষিণের লঞ্চে নিরাপত্তা আগের মতোই

চলে রান্না, নেই সিগন্যাল বাতি

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চলে রান্না, নেই সিগন্যাল বাতি

দেখতে বিলাসবহুল হলেও কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চের ইঞ্জিন রুমের পাশে রান্না করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের পর টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ও যাত্রীর নিরাপত্তা সরঞ্জাম আগের মতোই। অনেক স্থানে বয়া থাকলেও বাতি জ্বলে না। ফলে ঢাকা-দক্ষিণাঞ্চল নৌপথে চলাচল করা লঞ্চগুলো দেখতে বিলাসবহুল হলেও বাস্তবে অনিরাপদ। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে।

বরগুনা : ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে আসার পথে মাঝেরচর খালের মুখে কোনো সিগন্যাল বাতি নেই। এ কারণে গত ৪ জানুয়ারি কার্গো হালিমা সোবাহান ডুবে গেছে। এই নৌপথে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা জানায়, ঢাকা-বরিশাল রুটের হিজলা থেকে বাবুগঞ্জ খাঁড়ির মুখে বয়াবাতি দরকার, নলবুনিয়ায় বয়া আছে বাতি নেই। ঢাকা-আমতলী, পটুয়াখালী, গলাচিপা, খেপুপাড়া, রাঙ্গাবালী রুটের ভোলার ইলিশার জনতা বাজার এলাকায় বাতি নেই। সাদেকপুর পল্টনের কাছে বাতি নেই। ডান পাশের টেকে বাতি নেই। মাচকাজীপাড়ে বাতি নেই। ভেদরিয়ার শ্রীপুরের টেকে সিগন্যাল বাতি নেই। পাড়ে বাতি নেই। শ্রীপুরের চরে বাতি নেই। শ্রীপুর থেকে দুর্গাপাশা পর্যন্ত বয়া আছে, বাতি নেই।’

ঝালকাঠি থেকে বরগুনা চ্যানেলে ঢোকার পথে চল্লিশ কাউনিয়ার বাঁ পাড়ের চরের মাথায় মার্কা, সিগন্যাল বাতি নেই। অদুয়ার ডান পাড়ের চরের মাথায় সিগন্যাল বাতি নেই। নিয়ামতি ঘাটের ডানে-বাঁয়ে মার্কা, সিগন্যাল বাতি নেই। নিয়ামতি থেকে বেতাগী পর্যন্ত কোনো মার্কা, সিগন্যাল বাতি নেই।

চালকরা জানান, ঢাকা থেকে ঝালকাঠির গাবখান চ্যানেলের পর বরগুনা পর্যন্ত ৩৯ কিলোমিটারে কোনো মার্কা  ও সিগন্যাল বাতি নেই। এখানে রাতে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ চালাতে হয়।

বরিশাল বিআইডাব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক আজগর আলী বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল নৌপথে সিগন্যাল বাতি, বয়া দেওয়া আছে। আবার অনেক জায়গায় বাতি, ব্যাটারি নষ্ট হয়ে ঠিকমতো কাজ করছে না। যেসব স্থানে বয়া, মার্কা ও সিগন্যাল বাতি দেওয়া দরকার, সেগুলো দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বরিশালের শ্রীপুর থেকে ওই এলাকা পায়রা সমুদ্র বন্দরের আওতায় হওয়ায় সেখানে তারা সিগন্যাল বাতি দেবে।’

চরফ্যাশন (ভোলা) : সম্প্রতি বেতুয়াঘাটে নোঙর করা তিনটি এবং গোসেরহাটে একটি লঞ্চে সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র টানানো নেই। ইঞ্জিনকক্ষের পাশে অরক্ষিত অবস্থায় ডিজেলভর্তি ব্যারেল রয়েছে। বড় গ্যাস সিলিন্ডার বসিয়ে রান্না করা হচ্ছে। যেখানে-সেখানে ধূমপান চলছে। নেই সিসিটিভি ক্যামেরা, আনসার বাহিনী সদস্যদের অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) বরিশাল বন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘লঞ্চে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত ও যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিআইডাব্লিউটিএ অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’



সাতদিনের সেরা