kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দুর্নীতির ১৮ লাখ টাকা ফেরত দিলেন কে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতির ১৮ লাখ টাকা ফেরত দিলেন কে

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ১৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছর বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এরই মধ্যে মামলা চলাকালে বোর্ডের অনুকূলে সোনালী ব্যাংকে আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে কে বা কারা এই টাকা জমা দিয়েছে—সে ব্যাপারে জানে না কেউই। মামলার আসামিদের পাশাপাশি ব্যাংক কর্মকর্তারাও টাকা প্রদানকারীর পরিচয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত নন।

বিজ্ঞাপন

টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক তারিক হাসান বলেন, দুদকের একটি মামলার বিবরণ দিয়ে টাকাগুলো জমা করা হয়েছে। জমাকারী হিসেবে শওকত আলীর নাম লেখা আছে। কাউন্টারে অনেক মানুষই টাকা জমা দেয়, সবাইকে তো চিনে রাখা সম্ভব নয়। টাকা জমা হওয়ার পর শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের রাজশাহীর গ্রেটার রোড শাখায় ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ টাকা জমা করা হয়। টাকা জমা দেওয়ার সময় আবেদনে একটি মামলার বিবরণও সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই মামলার কারণেই টাকাগুলো জমা দেওয়া হলো।

ব্যাংকে টাকা জমাকারী হিসেবে মামলার এক আসামি ঠিকাদার শওকত আলীর নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি টাকা জমা দেননি। তাঁর নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আবুল কালাম আজাদ। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দুদক অনুসন্ধান করে তিনিসহ ১৪ জনকে আসামি করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় একটি মামলা করে। আসামিদের মধ্যে চারজন ঠিকাদার, অন্যরা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানায়, মামলায় এরই মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। সম্প্রতি টাকা ফেরত দিয়ে মামলা থেকে আসামিদের দায়মুক্তির জন্য আবেদনও করা হয়েছে।

তবে কে আবেদন করেছেন, তা স্পষ্ট করেনি দুদক। বিচারাধীন অবস্থায় টাকা ফেরত দিয়ে দায়মুক্তির সুযোগ নেই বলেও জানান দুদক কর্মকর্তা।

দুদকের মামলার আসামি শিক্ষা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক নেসার উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘কে টাকা জমা দিয়েছে, তা আমি জানি না। আমি তো শুধু আদালতে হাজিরা দিই। করোনার কারণে অনেক দিন হাজিরাও দেওয়া লাগেনি। ’

এ বিষয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি কোনো টাকা ফেরত দিইনি। কে দিয়েছে তাও জানি না। ’



সাতদিনের সেরা