kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ছয় বছরেও চালু হয়নি হাসপাতাল

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছয় বছরেও চালু হয়নি হাসপাতাল

যশোরের বেনাপোল ও শার্শার গোড়পাড়া বাজারে আট কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (হাসপাতাল) ছয় বছর আগে নির্মিত হলেও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দুই এলাকার হাজার হাজার মা ও শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের টানাপড়েনে এর কার্যক্রম শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু না হওয়ায় দুর্ঘটনায় এলাকার কেউ আহত হলে বা কোনো প্রসূতির জরুরি ডেলিভারির প্রয়োজনে তাঁকে বেনাপোল থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হয়। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে যশোরের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

৩৮ কিলোমিটার যাওয়ার সময় অনেকে পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

বেনাপোলের বাসিন্দা সংবাদকর্মী আশানুর রহমান জানান, গত মাসে তাঁর গর্ভবতী মেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হলে তাঁকে শার্শা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। কিন্তু ডাক্তার তাঁকে যশোরে নিতে বলেন। যশোরের ডাক্তাররা তাঁকে দেখেননি। পরে খুলনা নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি জানান, বাড়ির কাছেই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু হয়নি। এখানে সেবা পেলে হয়তো মেয়েকে হারাতে হতো না।

শার্শার নিজামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার নিতু জানান, গত মাসে তাঁর এক আত্মীয় গর্ভাবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিধি-নিষেধের কারণে যানবাহন চলছিল না। মোটরসাইকেলে বসিয়ে যশোর নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, এত দিনেও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দুটি চালু না হওয়ায় মায়েরাও সেবা থেকে বঞ্চিত। গুরুতর অসুস্থরা দূর-দূরান্তে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে রাস্তায় জীবন দিচ্ছে।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর আলিফ রেজা জানান, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দুটি চালু হওয়া জরুরি।

শার্শা উপজেলা মা, শিশু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, উপজেলায় দুটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আপাতত পাঁচটি করে বেড ও চেয়ার-টেবিল সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রত্যেক মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দুজন চিকিৎসক, দুজন নার্সসহ মোট ১৮ জন থাকবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আশা করা যাচ্ছে, চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হবে।

জনবল না থাকায় হাসপাতালটি চালু করা যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন।



সাতদিনের সেরা