kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নোনা পানি আনছেন আ. লীগ নেতা

♦ চকরিয়ার ঢেমুশিয়া জলমহাল
♦ আয়তন ২০০ একর
♦ নোনা পানি ঢোকানোর অভিযোগ
♦ ছয় হাজার একর অনাবাদি থাকার আশঙ্কা

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নোনা পানি আনছেন আ. লীগ নেতা

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া জলমহালে লবণাক্ততার কারণে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে কচুরিপানা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া বদ্ধ জলমহালে নোনা পানি ঢোকানোর অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। নোনা পানির প্রভাবে কচুরিপানা মারা যাচ্ছে। আশপাশের ছয় হাজার একর জমি অনাবাদির আশঙ্কা করছে কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০ একরের প্রায় ছয় মাইল দীর্ঘ এই জলমহাল।

বিজ্ঞাপন

এখানকার মিঠা পানি ব্যবহার করে উপকূলীয় পাঁচটি ইউনিয়নের হাজারো কৃষক তাদের জমিতে রকমারি ফসল ফলায়। ১০টি গ্রামের লাখো মানুষ বাসন-কোসন ধোয়া, গোসল করাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ চালায়। ১০ বছর আগে এখান থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত শত শত জেলে। ইজারা দেওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষ এখানে মাছ ধরতে পারে না।

সর্বশেষ তিন বছরের জন্য ২৭ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতিকে। এই সমিতির পরিচালক দলিলুর রহমান। তিনি মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। ইজারার শর্ত ছিল, কোনোভাবে জলমহালে নোনা পানি ঢোকানো যাবে না। কিন্তু ১৫ থেকে ২০ দিন আগে প্রভাবশালী ইজারাদার সমুদ্র উপকূলের জলকপাট খুলে দিয়ে নোনা পানি ঢোকানো শুরু করেন। উদ্দেশ্য, সামুদ্রিক মাছ চাষ করে অধিক উপার্জন করা। এই পরিস্থিতিতে পুরো জলমহালের পানি লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। লবণাক্ততার কারণে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে পানিতে ভাসতে থাকা কচুরিপানা। এতে মাথায় হাত উঠেছে মাতামুহুরীর পশ্চিম বড় ভেওলা, পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী ও বিএমচর ইউনিয়নের হাজারো কৃষকের। তারা মিঠা পানির অভাবে চলতি শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ছয় হাজার একর জমিতে ধান, সবজি আবাদ করতে পারছে না।

পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের কৃষক আহমদ হোসেন, রবিউল আলম ও জাফর আলম জানান, ইজারাদাররা রাতে সমুদ্র উপকূল লাগোয়া জলকপাটগুলো খুলে দেন। এতে নোনা পানিতে টইটম্বুর হয়ে পড়ে খাল। লবণের প্রভাবে বর্তমানে বীজতলা তৈরি করা যাচ্ছে না। ইজারাদার প্রভাবশালী হওয়ায় এ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

ভুক্তভোগী কৃষকরা এমন অভিযোগও করেন, প্রতি বর্ষায় পানি আটকে রেখে ছয় হাজার একর জমির আমন চাষের ক্ষতি করেন ইজারাদাররা।

ঢেমুশিয়ার আক্কাস আহমদ বলেন, ‘জলমহালে নোনা পানি ঢোকানোর কারণে গবাদি পশুসহ স্থানীয় লোকজন সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ’

ইজারাদার দলিলুর রহমান বলেন, ‘জলকপাট খুলিনি, নোনা পানিও ঢোকাইনি। এই জলমহালের সঙ্গে যুক্ত প্রবাহমান খাল দিয়ে নোনা পানি ঢুকেছে। ’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন বলেন, ‘এত দিন এই ধরনের অভিযোগ কেউ করেনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। ’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘যারা ইজারার শর্ত ভেঙে নোনা পানি ঢুকিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ’



সাতদিনের সেরা