kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ২০ করাতকল

♦ চুনারুঘাটে ৫০ করাতকলের অবৈধ ১৬টি
♦ উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বন

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ২০ করাতকল

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ আমতলীর বনের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ করাতকল। ছবি : কালের কণ্ঠ

সংরক্ষিত বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকলের লাইসেন্স দেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সংরক্ষিত বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ২০টি করাতকলের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কোনো কোনোটির লাইসেন্সও রয়েছে। বন বিভাগ সব জেনেও কিভাবে অনুমোদন দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য, সংরক্ষিত বনাঞ্চলসহ আছে ২৪টি চা-বাগান। এর পরও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বন বিভাগ করাতকলের লাইসেন্স দিচ্ছে। উপজেলায় ৫০টি করাতকলের মধ্যে লাইসেন্স আছে ৩৪টির, নেই ১৬টির। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ২০০ মিটারের মধ্যে কোনো করাতকল থাকার কথা না। কিন্তু কয়েকটি করাতকল এসব প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ করাতকলের মধ্যে শাকির মোহাম্মদে দুটি, লালচান্দে একটি, চাটপাড়ায় এবটি, ঘরগাঁওয়ে একটি, দেওরগাছে দুটি, হাতুণ্ডায় একটি, লক্ষ্মীপুরে একটি, বহরামপুরে একটি, পীরের বাজারে দুটি, উষাইনগরে একটি ও শানখলায় তিনটি।

বন এলাকায় থাকা করাতকলের মালিকদের মধ্যে রয়েছেন শানখলার সারাজ মিয়া, নিজাম উদ্দিন, গাজীগঞ্জ বাজারের আব্দুল হান্নান, আবুল ফজল তরফদার, শাকির মোহাম্মদ, কুতুব উদ্দিন, সুন্দরপুর বাজারের নাসির উদ্দিন, ইছাকুটা বাজারের শামছুল হক, ঘরগাঁওয়ের এনাম উদ্দিন, দেওরগাছ (আমতলী) বাজারের দেলোয়ার হোসেন, নেওয়াজ সেলিম, মাহবুবুর রহমান, রজব আলী, বহরামপুরের আল আমিন, দেওরগাছের আশরাফ মিয়া এবং শানখলার ইসমাইল হোসেন। এসব করাতকলের বিরুদ্ধে একাধিক বন মামলা রয়েছে।

অবৈধ করাতকল মালিকরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্যে বনের কাঠ চেরাই করছেন। আবার অনেক করাতকল আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করে চলছে বছরের পর বছর ধরে। সব করাতকলে স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের নজরদারি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বনের চোরাই কাঠসহ রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কেটে সাবাড় করছেন।

আবার সন্ধ্যার পরে করাতকল বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও মালিকরা তা মানছেন না।

চুনারুঘাট কালেঙ্গা রেঞ্জ কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, প্রতি মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে অবৈধ করাতকলগুলোতে অভিযান চালানো হয়। নগদ জরিমানাসহ যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে আসা হয়। কিছুদিন পরই তাঁরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে ফের করাতকল চালু করেন।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ ভৌমিক বলেন, ইদানীং কয়েকটি করাতকল অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



সাতদিনের সেরা